শিরোনাম
অপরাধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অপরাধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৫ মার্চ, ২০১৮

জাফর ইকবালকে দেখতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী

অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে দেখতে হাসপাতালে যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (৫ মার্চ) বেলা ১২টায় রাজধানী ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল-সিএমএইচে যাবেন তিনি।
গত ৩ মার্চ বিকেলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলার শিকার হন ড. জাফর ইকবাল। তাকে পেছন দিক থেকে মাথায় ছুরিকাঘাত করে ফয়জুর নামে এক যুবক।
এরপর তাকে সিলেটের ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) আনা হয়েছে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন।
হামলার পরপরই তাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আটকে রাখে শিক্ষার্থীরা। পরে রাত নয়টায় হামলাকারী ফয়জুরকে র‌্যাব সদস্যরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।

খালেদার সঙ্গে দেখা করবেন পিজির ডাক্তার

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে যাবেন পিজির ডাক্তারা।
সোমাবার (৫ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে ডা. সাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল যাবেন নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে।
প্রতিনিধি দলে অন্যান্য সদস্যরা হলেন- প্রফেসর ডা. রায়হান, প্রফেসর ডা. এ কে এম আমেনুল হক, প্রফেসর ডা. সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর ডা. সাইফুল ইসলাম, প্রফেসর ডা. মজিবর রহমান হাউলাদার, প্রফেসর ডা. আব্দুল কুদ্দুস, প্রফেসর ডা. এ এস এম রফিকুল ইসলাম।
বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০১৬

মিতু হত্যাকান্ড: মূল হোতাকে বাঁচাতে মুসা গুম!

‘গত ২২ জুন ভোরে আমাদের বন্দরের নতুন বাসায় আসে পুলিশ। তাদের সঙ্গে ছিল মুসার বন্ধু নবী। তখন মুসা বাসায় ছিল না। কোথায় আছে জানতে চাইলে আমি বলি জানি না। তখন পুলিশ কর্মকর্তারা আমার ফোনটি নিয়ে নেয়। ওই ফোন দিয়ে নবী ফোন করে মুসাকে। বলে আমরা ঝামেলায় আছি তুই তাড়াতাড়ি তোর বাসায় আয়। কিছুক্ষণ পর মুসা বাসায় আসে। এরপর পুলিশ কর্মকর্তারা নবী ও মুসাকে নিয়ে চলে যায়। এরপর তার আর কোন খোঁজ নেই। আমরা জানি সে পুলিশ হেফাজতে আছে, তাই অন্য কোথাও তাকে আমরা খুঁজিনি।’- ইত্তেফাক।
গতকাল বুধবার এ কথা বলেন পুলিশের সোর্স মুসার স্ত্রী পান্না আক্তার। এখন প্রশ্ন উঠেছে, মুসা তাহলে কোথায়? কারণ এই মুসাকে ঘিরেই আটকে রয়েছে দেশের এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার রহস্য। ঘটনার ২৫ দিন পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে মিতু হত্যার এই মূল সমন্বয়ক। তবে পুলিশ বলছে, মুসাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। কিন্তু তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশের এমন বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মুসার স্ত্রী পান্না আক্তার। তার ধারণা, এই হত্যার মূল হোতাকে বাঁচাতে মুসাকে গুম করা হয়েছে।
এদিকে মিতু হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন পাঁচজনের দেশ ছাড়ার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পুলিশ। এরা হলেন- মুসা, রাশেদ, নবী, শাজাহান ও কালু। গতকাল চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) পক্ষ থেকে এ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বাংলাদেশের সব স্থল ও বিমানবন্দরে বার্তা পাঠানো হয়। পুলিশ বলছে, মিতু হত্যাকাণ্ডে এরা সরাসরি জড়িত ছিলো।
মুসার পরিবারের সদস্যরা বলছেন, মুসা ও তার বড় ভাই সাইদুর রহমান সিকদারকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। মুসার সঙ্গে তাদের আর কোনো যোগাযোগ নেই। মুসা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন, এমনটা জেনেই তারা কোনো আইনি পদক্ষেপও নেননি। তারা জানান, মুসার মুখোমুখি করতেই বাবুল আক্তারকে গত শুক্রবার গভীর রাতে পুলিশ তার ঢাকার শ্বশুরের বাসা থেকে নিয়ে যায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল শনিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকে জানান, মিতু হত্যার কয়েকজন আসামির মুখোমুখি করার জন্য বাবুল আক্তারকে আনা হয়েছে। তবে গতকাল পর্যন্ত তিনি বলেননি ওই আসামি কারা ছিল। সঙ্গত কারণেই মানুষ ধরে নিয়েছে ওই আসামিদের মধ্যে মুসাও ছিল। অথচ পুলিশ দাবি করছে মুসাকে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না।
পুলিশের এই দাবি যদি সত্যও হয়, তাহলে মুসা কোথায় গেল? এটাই এখন মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন! পুলিশ ছাড়াও কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা মিতু হত্যার তদন্তে নিয়োজিত। গত এক সপ্তাহ তাদের কারো কাছ থেকেই মুসাকে হেফাজতে নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি। স্বাভাবিক কারণেই সাধারণ মানুষ এখন ভাবতে বাধ্য হচ্ছে যে মুসাকে কি তাহলে গুম করা হয়েছে! মিতু হত্যার নেপথ্য কুশীলবকে আড়াল করতেই কি মুসাকে গুম করা হলো! প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করে মুসাকেই কি বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে। এমন অনেক প্রশ্ন থাকলেও কোনটিরই উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।
সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার গতকাল বলেন, মিতু হত্যাকাণ্ডের ‘মূল জায়গা’ হলো মুসা। তাকে ধরার সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। মুসার পরিবারের দাবি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘একটা মানুষ এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ। তাকে যদি কেউ ধরে নিয়ে থাকে তাহলে প্রেসের মাধ্যমে তা প্রকাশ করার সুযোগ ছিল। পরিবারের উচিত ছিল এ বিষয়ে থানায় জিডি করা বা আমাদের নলেজে নিয়ে আসা। কিন্তু তারা সেটা করেননি।’
মুসাকে ঢাকায় বাবুল আক্তারের মুখোমুখি করা হয়েছিল কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। কাদের মুখোমুখি করা হয়েছে বা করা হয়নি তা আমার জানা নেই। মুখোমুখি করার কথা মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘সংবাদ প্রচারের জন্য আপনারা (গণমাধ্যম) যেভাবে মরিয়া হয়েছেন সেটা ঠিক নয়। আপনারাই যদি সমস্ত কিছু বিশ্লেষণ করতে থাকেন তাহলে কিন্তু তদন্ত হয় না।’
মুসার স্ত্রী’র বক্তব্য: মুসার স্ত্রী পান্না আক্তার জানান, পুলিশ গত ১২ জুন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় মুসার বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় মুসার তিন ভাইকে আটক করে নিয়ে যায়। পরদিন ভাইদের নিয়ে নগরীর কালামিয়া বাজার এলাকায় মুসার বাসায় অভিযান চালায়। তবে ইতিমধ্যে তারা বাসা পরিবর্তন করে ফেলায় মুসাকে ওই বাসায় পাওয়া যায়নি। পরে মুসার বন্ধুর নবীর কাছ থেকে তথ্য নিয়ে গত ২২ জুন ভোরে বন্দর এলাকায় মুসার নতুন বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় মুসা বাসায় ছিলেন না। পরে পান্না আক্তারের মোবাইল ব্যবহার করে নবীকে দিয়ে মুসাকে ফোন করায় পুলিশ। ফোন পেয়ে মুসা বাসায় আসে। এরপর সেখান থেকে মুসাকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়।
ভিডিও ফুটেজ দেখেও মুসাকে চিনতে পারেনি পুলিশ : মিতু খুন হওয়ার পরপরই তিন খুনির মোটরসাইকেলে চলে যাওয়ার দৃশ্য ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে। আটক একজনের জবানবন্দিতে জানা গেছে, এই তিনজন ছিল মুসা, ওয়াসিম ও নবী। এর মধ্যে মুসা ছিল পুলিশের সোর্স। বাবুল আক্তারের সোর্স হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে মুসা। এই সুবাদে সিএমপিতে তার নিয়মিত আসা-যাওয়া ছিল। চট্টগ্রামের অনেক পুলিশ কর্মকর্তাই মুসাকে ভালোভাবে চেনার কথা। কিন্তু মিতু খুনের ভিডিও ফুটেজ দেখার পরও এসব কর্মকর্তা কেন মুসাকে শনাক্ত করতে পারলেন না, সেটা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এমনকি বাবুল আক্তারও ভিডিও ফুটেজ দেখে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুসাকে চিনতে পারলেন না কেন, সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাহলে কি চিনতে পেরেও মুসাকে তারা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন?
পাঁচজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা : সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার বলেন, ‘পাঁচজন যাতে দেশের বাইরে যেতে না পারে, সে জন্য স্থল ও বিমানবন্দরগুলোকে পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।’ মিতু হত্যাকাণ্ডে ‘সরাসরি জড়িত’ মোতালেব মিয়া ওয়াসিম ও আনোয়ার হোসেনের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এই পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতার কথা এসেছে। ওয়াসিম ও আনোয়ারকে গত শনিবার গ্রেফতারের পর সিএমপি কমিশনার বলেছিলেন, ‘জিইসি মোড়ের কাছে মিতু হত্যাকাণ্ডে সাত-আটজন অংশ নিয়েছিল। এদের মধ্যে ওয়াসিম গুলি চালান, আনোয়ার অনুসরণকারী ছিলেন।’ পরে তাদের জবানবন্দির ভিত্তিতে ওই হামলার ‘অস্ত্র জোগানদাতা’ এহতেশামুল হক ভোলা ও মনির হোসেন নামে দু’জনকে গত মঙ্গলবার গ্রেফতারের কথা জানায় পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত ৫ জুন চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে মাহমুদা খানম মিতুকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার ও স্বামী এসপি বাবুল আক্তারকে ১৫ ঘন্টা নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পুলিশ ‘জিজ্ঞাসাবাদ’ করলেও খুনের মূল নির্দেশদাতার পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

মঙ্গলবার, ২৮ জুন, ২০১৬

চট্টগ্রাম: পাঁচ কেজির বাটখারার ওজন সাড়ে তিন কেজি!

মাংস বিক্রেতার দোকানে পাঁচ কেজি ওজনের বাটখারার ওজন পরিমাপ করে দেড় কেজি ওজন কম পাওয়া গেছে। এই অপরাধে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শনিবার চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের (র‍্যাব)  নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।
অভিযানে র‍্যাব-৭–এর উপ–অধিনায়ক মেজর মো. জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী পরিচালক জালাল উদ্দিন, চন্দন দেবনাথ ও বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, বেলা সাড়ে ১১টায় রেয়াজউদ্দিন বাজারে অভিযান চালায় র‍্যাব। অভিযানে দেখা যায়, রেয়াজউদ্দিন বাজারের মাংস বিক্রেতা আলী আকবর পাঁচ কেজির বাটখারায় দেড় কেজি চুরি করছিলেন। তাঁর পাঁচ কেজি ওজনের বাটখারাটি মেপে সাড়ে তিন কেজি পাওয়া গেছে। ওজনে কম দেওয়া ছাড়াও আলী আকবর গরুর মাংসের সঙ্গে মহিষের মাংস মিশিয়ে বিক্রি করছিলেন। এসব অপরাধের কারণে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাটখারায় কম ওজন পাওয়া যাওয়ায় একই বাজারের আরও চার মাংস বিক্রেতাকে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাঁরা হলেন শফিকুল ইসলাম, তুহিন মিয়া, আবুল হোসেন ও আবদুল রশিদ।
র‍্যাব সূত্র জানায়, নগরের সাগরিকা রোডে ফ্লেভারসের কারখানায় বেলা সাড়ে তিনটার দিকে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় নোংরা পরিবেশ ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ব্যবহারের কারণে আট লাখ টাকা জরিমানা করা হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বাকলিয়ায় ফুলকলির কারখানায় অভিযান চালান একই ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে খাবার উৎপাদনে মেয়াদোত্তীর্ণ রং ব্যবহার ও ফাঙাশ পড়া কেক-মিষ্টি বিক্রির জন্য সংরক্ষণ করার অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
র্যা বের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, ফ্লেভারসের কারখানায় খুবই অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদন হচ্ছিল। আর ফুলকলি তাদের খাবারে ক্ষতিকর রং ব্যবহার করছিল। বিভিন্ন অপরাধে এ দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৮ লাখ টাকা জরিমানা করে তাদের সতর্ক করা হয়েছে।

ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল: অত:পর যা ঘটলো

সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আলী হোসেনকে (৩২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর মিরাবাজার বিরতি পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মহানগর পুলিশের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সুহেল আহাম্মদ আলী হোসেনকে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আলী হোসেনের বিরুদ্ধে ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে আলী হোসেনকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে উপশহর, মেডিকেল রোড, বাগবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজন বিক্ষোভ মিছিল করে।

আওয়ামীলীগ নেতার ছেলে রনি: তিন ইয়াবা কারখানার মালিক

সরকারের প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর ছেলে তিনি, নাম রনি চৌধুরী। দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন আন্ডারওয়ার্ল্ড। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কায়েম করেছেন ত্রাসের রাজত্ব। মাদক কারবারের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতে। ইয়াবা বানানোর অন্তত তিনটি কারখানা আছে তাঁর।
অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করে সরকারি সম্পত্তি দখল করে নিচ্ছে রনি ও তাঁর গ্রুপের সদস্যরা। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনেও তিনি ব্যাপক মনোনয়ন-বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। র‌্যাব ও পুলিশ দিয়ে আটকে ভয় দেখিয়ে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।  
১৯৯৬ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে রনি চৌধুরীর বড় ভাই দিপু চৌধুরী নিয়ন্ত্রণ করতেন রাজধানীর অপরাধজগৎ। এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন রনি। অভিযোগ রয়েছে, রনি ও তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গ রাজধানীর উত্তরার আবদুল্লাহপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় আড়াই বিঘা জমি দখল করে সেখানে মার্কেট নির্মাণ করছে। এ জন্য সাবেক এক মন্ত্রীর ভাগ্নে সারোয়ারসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের হাত করেছেন রনি। গভীর রাতে বাইরে থেকে মাটি এনে ভরাট করা হচ্ছে সেই জায়গা। নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা মহড়া দিচ্ছে ওই এলাকায়। আজমপুর কাঁচাবাজারও দখল করে রেখেছে রনির গ্রুপের সদস্যরা। তিনি গুলশান, তেজগাঁও ও নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে বানিয়েছেন ইয়াবা তৈরির কারখানা। সারা দেশে ইয়াবা বিক্রির নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে তাঁর গ্রুপের সদস্যরা।
‘সিসা হাউজ’ ও ইয়াবা কারখানা: গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, সাবেক এক মন্ত্রীর ভাই নাঈম ও ভাগ্নে সারোয়ার এবং রনি চৌধুরী মিলে ইয়াবা কারখানা বসিয়েছেন রাজধানীর গুলশানে। গুলশান-২ এর ৪৩ নম্বর সড়কে ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর বাড়িতে গড়ে তুলেছেন ‘সিসা হাউজ’। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে সিসাসহ নানা রকম মাদক বেচাকেনা চলে। পাশাপাশি চলে তরুণ-তরুণীদের উদ্দাম নৃত্য। তিন বছর ধরে কোনো বাধা ছাড়াই চলছে এ আখড়া।
সূত্র জানায়, কক্সবাজার ও টেকনাফে পুলিশ-র‌্যাবের তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারিদের সঙ্গে রনি চৌধুরীর গভীর সখ্য রয়েছে। বাংলাদেশের সীমানাঘেঁষা মিয়ানমারের মংডু এলাকায় স্থাপিত ইয়াবা কারখানার কারিগর মোসলেমকে এনেই গুলশানের কারখানা বসানোর ব্যবস্থা করেছেন রনি চৌধুরী। এ কারখানা থেকে ঘণ্টায় আট থেকে ৯ হাজার ইয়াবা বড়ি প্রস্তুত করা হয়। এত দিন পুরনো মেশিন দিয়ে কারখানার কাজ চললেও বড়ির উৎপাদন বাড়াতে এখন নতুন মেশিনপত্র সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে মিয়ানমারের কারিগর মোসলেম স্থানীয় এক যুবককে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলেছেন। ওই যুবক দুই সহযোগী নিয়ে ইয়াবা তৈরির কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। সন্ধ্যায় যখন সিসা হাউজে উদ্দাম নাচ-গান চলে তখন সেই শব্দের আড়ালে চালু করা হয় ইয়াবা কারখানা। যাতে কারখানার শব্দ বাইরের লোকজন শুনতে না পায়। রাত ৮টা থেকে রাত দেড়টা-২টা পর্যন্ত সচল থাকে কারখানা। সেই হিসাবে প্রতি রাতে ওই কারখানায় ৫০ হাজারেরও বেশি ইয়াবা বড়ি প্রস্তুত হয়। পরে নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সেগুলো রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে সরবরাহ করা হয়।
রনি চৌধুরীর নেতৃত্বে ইয়াবার আরেকটি কারখানা বানানো হয়েছে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর সেতুর অদূরে। রনি চৌধুরীর পক্ষে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার পরোক্ষ তত্ত্বাবধানে গোদনাইল এলাকার তেল চোর সিন্ডিকেটের সদস্যরা ভাসমান ড্রেজিং বার্জের মধ্যেই ইয়াবা কারখানা স্থাপন করেছে। দুই বছর ধরে সেখানে ইয়াবা বানানো হচ্ছে। নৌপথেই সেগুলো বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হচ্ছে। ইয়াবার কাঁচামাল তারা টেকনাফ সীমান্তপথে মিয়ানমার থেকে সংগ্রহ করে। লবণ ও বালু বোঝাই বিভিন্ন ট্রলারের তেল মজুদের ছদ্মাবরণে ড্রাম ড্রাম ইয়াবার উপাদান আনা হয় কাঁচপুর এলাকায়। সেখানে ভাসমান ড্রেজিং বার্জে সেসব ড্রাম খালাস করা হয়। 
সূত্র জানায়, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে সরকারি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের অদূরে একটি ওষুধ কারখানার ভেতরেও রনি চৌধুরীর নেতৃত্বে ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন ওই কারখানায় দুই লাখেরও বেশি ইয়াবা বড়ি উৎপাদন হয়। ‘জরুরি ওষুধ লেখা’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ইয়াবার চালান নিয়ে ডেলিভারি ভ্যানগুলো রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে যায়। নির্দিষ্ট ফার্মেসির সামনে এসব ডেলিভারি ভ্যান থামিয়ে চিহ্নিত মাদক কারবারিদের হাতে চাহিদামাফিক ইয়াবার চালান তুলে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রনি চৌধুরীর মূল আস্তানা গুলশান, বনানী ও উত্তরা এলাকায়। তাঁর নেতৃত্বে রয়েছে একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ। মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে তারা। ইয়াবার ব্যবসা করে রাতারাতি কোটি কোটি টাকা বানিয়েছে তারা। কারখানা থেকে ইয়াবার বড়ি সরবরাহ করা হয় উত্তরার বিভিন্ন রেস্তোরাঁসহ বাসাবাড়িতে। বনানী ও গুলশানেও রয়েছে তাঁর নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী। আন্ডারওয়ার্ল্ডের ভয়ংকর ত্রাস মানিকের সঙ্গে তাঁর রয়েছে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ। মালিবাগ এলাকাতেও রয়েছে রনি গ্রুপের বিশাল প্রভাব।
স্থানীয়রা জানায়, একসময় রনির বড় ভাই দিপু চৌধুরী পুরো উত্তরা এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতেন। তাঁর দখলে ছিল উত্তরা ফ্রেন্ডস ক্লাব। ওই ক্লাবের আধিপত্য নিয়ে ১৯৯৭ সালের দিকে তিতাস নামে একজনকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় দিপু চৌধুরীসহ তাঁর সাঙ্গপাঙ্গোদের বিরুদ্ধে মামলা আছে।
পাউবোর জায়গা দখল করে মার্কেট : উত্তরার আবদুল্লাহপুর পলওয়েল মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় পাউবোর প্রায় আড়াই বিঘার ওপর একসময় বস্তি ছিল। নাম ছিল আবদুল্লাহপুর পলওয়েল মাঠ বস্তি। সূত্র মতে, মাস ছয়েক আগে বস্তিটি উচ্ছেদ করা হয়। একপর্যায়ে রনি চৌধুরী দলবল নিয়ে জায়গাটি দখলে নেন। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা দেখা গেছে, সেখানে মার্কেট নির্মাণের কাজ চলছে। টিনশেড ঘর তোলা হয়েছে। চারপাশে সীমানা দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। মাঝখানে একটি সাইনবোর্ড রয়েছে। তাতে লেখা ‘এতদ্বারা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে নিম্নবর্ণিত তফসিলভুক্ত ভূমি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক অধিকরণকৃত জমি। উক্ত উচ্ছেদকৃত ভূমিতে কোনো প্রকার স্থাপনা না করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হইল।’ তবে পাউবোর সেই নির্দেশ অমান্য করেই মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে। মার্কেট নির্মাণে কাজ করছে ২০-১৫ জন শ্রমিক। তাদের মধ্যে রমজান আলী নামে এক শ্রমিক বলেন, ‘মাসখানেক আগে মার্কেট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। রাতের বেলায় মাটি ভরাট করা হয়। গভীর রাতে দামি গাড়িতে করে এক ব্যক্তি আসেন (রনি চৌধুরী)। তিনি সাইট ঘুরেফিরে চলে যান। এই সময় তাঁর সঙ্গে ২০-২৫ জন সশস্ত্র যুবক থাকে। তবে শুনেছি এটি সরকারি জায়গা। সরকারি দলের নেতারা এটি দখল করেছেন। আগে এটি বস্তি ছিল।’
স্থানীয় বাসিন্দা রফিক, রুহুল আমিন, আবদুর রহমানসহ অন্তত ১৫ ব্যক্তি জানান, রনি চৌধুরী তাঁর দলবল নিয়ে জায়গাটি দখল করেছেন। বস্তি উচ্ছেদ করার সময় বলা হয়েছিল, এখানে পাউবোর অফিস করা হবে। আর এখন প্রভাবশালীরা মার্কেট নির্মাণ করছেন। প্রতিদিন রাতের বেলায় সন্ত্রাসীরা এখানে নিয়মিত আসে। তাদের ভয়ে কেউ কথা বলতে পারে না। কিছুদিন আগে সন্ত্রাসীরা বাপ্পী নামের এক যুবককে সেখানে মারধর করে। এলাকার লোকজন প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসীরা হুমকি দিয়ে বলে, ‘আমরা রনি চৌধুরী ও ভাগ্নে সারোয়ারের লোক। টুঁ শব্দ করলে গুলি করে মেরে ফেলব।’
তবে দখলের ব্যাপারে জানতে চাইলে পাউবোর ফিল্ড অফিসার মিজানুর রহমান প্রথমে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে শুধু বলেন, ‘জায়গাটি আমাদের। তবে এখানে আমরা কোনো মার্কেট নির্মাণ করছি না।’
ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্য : সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে রনি চৌধুরী চাঁদপুরের মতলব উত্তরে ব্যাপক মনোনয়ন বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মতলব উত্তরে ১৪টি ইউপিতে নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে ফরাজীকান্দি, সুলতানাবাদ, শাইকনল, বাগানবাড়ী, পূর্ব ফতেহপুর, পশ্চিম ফতেহপুর, জহিরাবাদ ও মোহনপুর ইউনিয়নে প্রার্থীদের কাছ থেকে মনোনয়ন দেওয়ার নামে তিনি অর্থ নিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাঁদপুর আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, রনি চৌধুরীকে যাঁরা নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দিতে পেরেছেন তাঁরাই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। একেকজন প্রার্থীর কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। এমনকি মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিএনপির প্রার্থীদের কাছ থেকেও অর্থ নিয়েছেন তিনি।
আমিন হুদা গ্রুপের সঙ্গে সখ্য : বাংলাদেশে ইয়াবা ব্যবসা ও ইয়াবা তৈরির অন্যতম গডফাদার আমিন হুদা। তিনিই প্রথম দেশে ইয়াবার চালান নিয়ে আসেন। জার্মানি থেকে ইয়াবার কাঁচামাল সংগ্রহ করে দেশেই ইয়াবা তৈরির কারখানা গড়ে তোলেন আমিন হুদা। ২০০৭ সালের ২৫ অক্টোবর র‌্যাব গুলশান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তবে আমিন হুদা কারাগারে থাকলেও তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গরা আছে বহাল তবিয়তে। তাদের মধ্যে জুবায়ের, আলী আকবর, শ্যামল মজুমদারসহ অন্তত ১৭ জনের একটি সিন্ডিকেট ঢাকায় ইয়াবা পাচার করে। তাদের সঙ্গে রনি চৌধুরীর সখ্য রয়েছে। তাদের সঙ্গে আতাত করেই রনি গ্রুপ ইয়াবা ব্যবসা করছে।
এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ঢাকা মহানগর উপ-অঞ্চলের এক উপপরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘রাঘব বোয়ালরা ইয়াবার ব্যবসা চালাচ্ছে। তারা নামে-বেনামে তৎপর আছে। একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর ছেলে ইয়াবা ব্যবসা করছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছে। তাকে নজরদারি করা হচ্ছে।’
সাত খুন মামলার আসামি নূর হোসেনের সঙ্গে লেনদেন : নারায়ণগঞ্জে সাত খুন মামলার অন্যতম আসামি নূর হোসেনের সঙ্গেও রনি চৌধুরীর সখ্য রয়েছে। র‌্যাব ১১-এর তৎকালীন অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদ (চাকরিচ্যুত এবং সাত খুন মামলায় বর্তমানে কারাগারে) হলেন রনি চৌধুরী ভগ্নিপতি। সেই সুবাদে নূর হোসেনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েন রনি। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল সাত খুনের ঘটনার পর থেকে নূর হোসেনকে বাঁচানোর কথা বলে রনি মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন। তা ছাড়া তারেক সাঈদের প্রভাব খাটিয়ে রনি কুমিল্লা, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের আটকের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ নিতেন।
মুন্সীগঞ্জের এক বিএনপি নেতা বলেন, ‘২০১৩ সালে র‌্যাব একবার আমাকে গ্রেপ্তার করে। পরে রনি চৌধুরীর মাধ্যমে ছাড়া পাই। এ জন্য রনি চৌধুরীকে ১০ লাখ টাকা দিতে হয়েছে। একইভাবে রনি অনেক নেতার কাছ থেকেই অর্থ নিয়েছেন।’
মাদকবিরোধী সংগঠনের ব্যানারেই মাদক ও দেহ ব্যবসা : সূত্র জানায়, উত্তরা রাজউক কাঁচাবাজার মার্কেটও রনি চৌধুরীর দখলে। সেখানকার প্রতিটি দোকান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে তাঁর লোকজন। দক্ষিণখানে রনি চৌধুরী ‘বিলস’ নামে একটি মাদকবিরোধী সংগঠন গড়ে তোলেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সংগঠনের আড়ালে সেখানে চলে দেহ ও মাদক ব্যবসা। এ ক্ষেত্রে রনি চৌধুরীকে সহায়তা করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক নেতা সরদার বেলায়েত হোসেন মুকুল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, থানার পুলিশ জেনেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
স্থানীয়রা জানায়, উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরে ৩ নম্বর রোডের একটি আলিশান বাড়িতে রনি চৌধুরীর লোকজন নিয়মিত ইয়াবার চালান সরবরাহ করছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোনা পাচারকারীদের সঙ্গেও রনির সুসম্পর্ক রয়েছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রনি চৌধুরী পর্দার আড়ালে থেকে নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আছে। মাসে মাসে তাঁরা রনির কাছ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা পান, বিনিময়ে চোখ বন্ধ রাখেন।
রনির সহায়তায় কারাগার থেকে পালানোর পরিকল্পনা তারেক সাঈদের : গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সাত খুন মামলার অন্যতম আসামি তারেক সাঈদ তাঁর শ্যালক দিপু ও রনি চৌধুরীর প্রত্যক্ষ সহায়তায় জেল থেকে পালানোর পরিকল্পনা করছেন। চিকিৎসার নামে তারেক সাঈদ ইতিমধ্যে দিনের পর দিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আয়েশে কাটিয়েছেন। হাসপাতাল থেকে তিনি দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে শাহবাগ থানার পুলিশ একটি প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজন সাব-ইন্সপেক্টর তারেক সাঈদের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছেন। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, তারেক হাসপাতালের পুরনো ভবনের তৃতীয় তলায় ৪৩ নম্বর কেবিনে ছিলেন দীর্ঘদিন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তারেক সাঈদের স্ত্রী পরিচয়ে রিফাত চৌধুরীসহ কয়েকজন স্বজন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসেন। বাধা দিলে তাঁরা গালাগাল করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
একটি গোয়েন্দা সংস্থার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘রনি ও তার বড় ভাই তারেক সাঈদকে সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। তাদের মাধ্যমে তারেক দেশ ছেড়ে পালানোর পাঁয়তারা করছে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। তবে তাকে পুরো নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।’
সূত্র- কালের কণ্ঠ

পুলিশে ফিরছেন না বাবুল আক্তার! কিন্তু কেন?


স্ত্রী মাহমুদা খানম (মিতু) হত্যা মামলায় ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের চাকরিতে ফেরা নিয়ে বড় সংশয় দেখা দিয়েছে। তিনি আর চাকরিতে ফিরছেন না বলে অসমর্থিত একটি সূত্র জানিয়েছে। সর্বত্র আলোচনা, বাবুল আক্তার কি পুলিশ বাহিনী থেকে চলে যাচ্ছেন? একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, কর্মকর্তাদের একটি অংশ চায় না, তিনি আর বাহিনীতে ফিরে আসুন। পুলিশ বাহিনীর ভেতরেও এ নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।
জানতে চাইলে পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
বাবুলের এক স্বজন বলেন, ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর থেকে কাজে ফেরা নিয়ে বাবুলের মধ্যেও সংশয় তৈরি হয়েছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এরপর ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। সেখানে যে পুলিশ পাহারা ছিল, গতকাল তা তুলে নেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, গত শুক্রবার রাতে বাবুলকে ডিবি কার্যালয়ে আনার পর এক উপকমিশনারের কক্ষে ডিআইজি পদমর্যাদার তিনজন কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই সময় তাঁকে দুটি শর্ত দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। বলা হয়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সব তথ্য-প্রমাণ তাঁদের হাতে রয়েছে। তাঁকে জেলে যেতে হবে অথবা বাহিনী থেকে সরে যেতে হবে। বাহিনী থেকে সরে যাওয়ার ব্যাপারে বাবুল সম্মতি দেন বলে জানা গেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে থাকা দুজন কর্মকর্তার কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তাঁরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। একজন কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ মহাপরিদর্শক ছাড়া এ ব্যাপারে কেউ কিছু বলতে পারবেন না।
এদিকে গত রোববার রাতে দুই আসামি আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। জবানবন্দিতে আসামি মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম বলেছেন, তিনি ফাঁকা গুলি ছুড়েছেন। তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র নিয়ে কামরুল সিকদার ওরফে মুছা গুলি করেন মাহমুদাকে। আরেক আসামি মো. আনোয়ার বলেছেন, মাহমুদাকে গুলি করেছে ওয়াসিম। তার গুলিতেই বাবুল আক্তারের স্ত্রী মারা যান।
মুছাকে আটক করা হয়েছে কি না, এ বিষয়ে গতকাল সোমবারও পুলিশ স্পষ্ট করে কিছু বলেনি। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, মাহমুদা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া সাত-আটজন আসামি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছেন। যেকোনো সময় পুলিশ তাঁদের আটক কিংবা গ্রেপ্তার দেখাতে পারে। ওয়াসিম ও আনোয়ারকে গত শনিবার গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও গতকাল মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, এ হত্যার সঙ্গে জড়িত আরও দু-একজন ধরা পড়বে বলে তিনি নিশ্চিত। মাহমুদা হত্যায় জড়িত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়েছে। বাবুল আক্তারকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্দেহভাজন আসামিদের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিতে তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছিল।
তবে এ মামলার যে দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, তাঁদের শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার সাংবাদিকদের জানান। ফলে বাবুলকে কোন আসামির মুখোমুখি করা হয়েছিল, তা জানা যায়নি।
এর আগে গত রোববার চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. ইকবাল বাহার সাংবাদিকদের বলেন, ওয়াসিমের গুলিতেই মাহমুদার মৃত্যু হয়েছে। গত রোববার বিকেল থেকে রাত ৯টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মোহাম্মদ হারুন অর রশিদের আদালতে পৃথকভাবে দেওয়া জবানবন্দিতে মাহমুদা হত্যার বিবরণ দেন দুই আসামি। আসামি ওয়াসিমের জবানবন্দি ১৪ পৃষ্ঠার এবং আনোয়ারের জবানবন্দি ১০ পৃষ্ঠার। দুই আসামি বর্তমানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।
দুই আসামির দেওয়া জবানবন্দির বিষয়ে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, মাহমুদা হত্যাকাণ্ডে সাতজন অংশ নেন। দুই আসামি জবানবন্দিতে অস্ত্রটি কার কাছ থেকে কিনেছেন, কে গুলি করেছেন তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তবে ওয়াসিম নিজে গুলি করার কথা স্বীকার না করে মুছার ওপর দোষ চাপিয়েছেন। ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা আনোয়ার স্বীকার করেন, ওয়াসিমই গুলি করেছেন মাহমুদাকে।
আদালত সূত্র জানায়, দুই আসামি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন হত্যাকাণ্ডে ওয়াসিম, আনোয়ার, মো. রাশেদ, আবদুল নবী, মো. শাহজাহান, কামরুল সিকদার ওরফে মুছা ও মো. কালু অংশ নেন। ওয়াসিম, মুছা ও আবদুল নবী মোটরসাইকেলে ছিলেন। বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করেন আবদুল নবী। অন্যরা ঘটনাস্থলের আশপাশে ছিলেন। ভোলা নামের এক ব্যক্তি অস্ত্র সরবরাহ করেন।
জবানবন্দিতে বলা হয়, বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে তাঁরা চিনতেন না। মুছার কথামতো ভাড়াটে হিসেবে তাঁরা খুনে অংশ নেন। মুছাকে পুলিশের ‘বড়’ সোর্স হিসেবে তাঁরা জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। জবানবন্দিতে কোনো পুলিশ কর্মকর্তার নাম তাঁরা বলেননি।
তদন্তের সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র জানায়, ওয়াসিম জবানবন্দিতে বলেছেন, বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে যখন ছুরিকাঘাত করা হয়, তখন তাঁর ছেলে ওয়াসিমের পা জড়িয়ে ধরে বলতে থাকে, ‘আমার আম্মুকে মেরো না। আমার আম্মুকে ছেড়ে দাও।’
৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামের জিইসি এলাকায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন বাবুলের স্ত্রী মাহমুদা খানম। ঘটনার পর পুলিশ জানায়, জঙ্গি দমনে বাবুল আক্তারের সাহসী ভূমিকা ছিল। এ কারণে জঙ্গিরা তাঁর স্ত্রীকে খুন করে থাকতে পারে। হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল আক্তার অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন। -প্রথম আলো।

সোমবার, ২৭ জুন, ২০১৬

অনৈতিক কাজে লিপ্ত অবস্থায় ধরা পড়ে ছাড়লেন স্বামীর ঘর

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা এলাকায়  প্রেমিকের সঙ্গে অনৈতিক কাজ করা অবস্থায় হাতেনাতে ধরা পড়ে স্বামীর ঘর ছেড়েছেন শারমিন বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূ।  ২৫ জুন শনিবার সকালে তালাকের পর স্বামীর ঘর ছাড়েন তিনি।
এর আগে ২৪ জুন শুক্রবার রাতে প্রেমিক আবদুল আজিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অনৈতিক কাজে লিপ্ত অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন তারা।
ওই এলাকার বিল্লাল হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন পার্শ্ববর্তী দৌলতপুর উপজেলার চর ভারাঙ্গা এলাকার লোকমান হোসেনের মেয়ে। আর শিবালয়ের কৃষ্ণপুর এলাকার মৃত দেলখোস আলীর ছেলে আজিজ আরিচা ঘাটের মাসুদ মটরসের মালিক।
স্বজন ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, বড় স্ত্রী’র ঘরে বিল্লালের সাত মেয়ে। আর শারমিনের প্রথম স্বামীর ঘরে রয়েছে এক ছেলে। চার বছর আগে শারমিনকে বিয়ে করেন বিল্লাল। বিয়ের পর থেকে দ্বিতীয় স্ত্রী’কে আলাদা নিজেরই আরেকটি বাড়ি রেখে ঘর সংসার করছেন তিনি। ওই বাড়ির পাশেই যানবাহন মেরামত করার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আজিজের। বছর খানেক ধরে শারমিনের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন আজিজ।
বিষয়টি কিছু দিন ধরে টের পেয়ে প্রতিবেশীরা তাদের হাতেনাতে ধরার চেষ্টা করছিলেন। এরই মধ্যে শুক্রবার রাত সোয়া একটার দিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে শারমিন ও আজিজ অনৈতিক কাজে লিপ্ত হন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা তাদের হাতেনাতে ধরেন।
এ সময় উত্তেজিত প্রতিবেশী নারীরা শারমিনকে পিটুনি দেন। আর আজিজকে আটকে রাখেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় শনিবার সকালে স্থানীয় এসএম আব্বাসের অফিসে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে কাজীর মাধ্যমে খোলা তালাক দেন শারমিন ও বিল্লাল।
এদিকে শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিনের উপস্থিতিতে এক ঘরোয়া সালিশ বড় ভাই আক্কাস আজিজকে চর-খাপ্পড় মেরে সকলের কাছে ক্ষমা ও এ ধরণের কাজ আর করবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করান।
 
সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ বাংলা তরঙ্গ ডিজাইন বাংলা তরঙ্গ