শিরোনাম
আন্তর্জাতিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আন্তর্জাতিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২৬ জুন, ২০১৬

নিজ মেয়েকে হত্যার অনুমোদন চায় মা-বাবা! কিন্তু কেন?

নিজের ৮ মাসের শিশুকে হত্যা করার জন্য আদালতে অনুমোদন চেয়েছে ভারতের এক দম্পতি। গত বৃহস্পতিবার ভারতের চিতুর জেলার এক স্থানীয় আদালতে এই মামলা করা হয়।
কিন্তু কোর্ট সেই মামলা গিতুর জেলা কোর্ট বা হায়দ্রাবাদের আদালতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। নিজ শিশুকে হত্যা করতে চাওয়ার কারণ হল টাকা! শিশুটি অনেক অসুস্থ কিন্তু তার সুস্থতার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন, যা তার মা-বাবার নিকট নেই। তাই শিশুটিকে বাঁচিয়ে রেখে যন্ত্রণায় রাখার চেয়ে মেরে ফেলে শান্তি দিতে চেয়েছিল তার মা-বাবা। কোর্ট সেই মামলা অন্য আদালতে পাঠিয়ে তাৎক্ষণিক ৫০০০ টাকা তুলে শিশুটির মা-বাবার হাতে দেয়।
শিশুটির বাবা রামানাপ্পা একটি পাইকারি দোকানের বিক্রেতা এবং তার স্ত্রী সরস্বতী দুইজনে শিশুটিকে মেরে ফেলার জন্য নিম্ন আদালতে মামলা করেন। তাদের মেয়ের জন্মগত লিভারে সমস্যা রয়েছে।
রামানাপ্পা ও সরস্বতী বাথালাপুরামের রেলওয়ে গেটের সামনে একটি ছোট্ট ঘরে বসবাস করেন। তারা মামলা করেছেন যে, সরকার যেন তাদের শিশুর অসুস্থতার খরচ বহন করে বা তাদের শিশুকে হত্যা করার অনুমতি দেয়। নিজ শিশুকে হত্যা করার জন্য তারা প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিয়েছে।
ছোট্ট এই শিশুটি জন্মগত লিভারের একটি বিরল রোগে আক্রান্ত। ডাক্তার বলেছেন, তার লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে এবং এতে ৫০ লাখ টাকা খরচ হবে। দেরি করলে শিশুর স্বাস্থ্যের আরও অবনতি হতে পারে বলেও চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
আবার অপারেশনের পর প্রায় ৬ বছর তাকে হাসপাতালে রাখতে হবে। এতে প্রতি মাসে ৫০,০০০ টাকা খরচ হবে। শিশুটির বাবা জানায়, ব্যথায় শিশুটি সবসময় কাৎরাতে থাকে, চোখ দিয়ে তার অঝোরে পানি পড়তে থাকে। তিনি জানান, এবার তিনি উচ্চ আদালতে মামলা করে সাহায্যের জন্য প্রার্থনা করবে।–সুত্র: ইন্ডিয়া টাইম্‌স।

বুধবার, ২২ জুন, ২০১৬

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বসছে লেসার প্রাচীর

বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশ বন্ধে সীমান্তে ভারতের পক্ষ থেকে বসানো হচ্ছে লেসার প্রাচীর। আইএসআইএল সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে লেসার বিমের পাশাপাশি লেসার প্রাচীর বসানো হবে।
আজ (মঙ্গলবার) কোলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি সংবাদপত্রে এ সংক্রান্ত খবরে বলা হয়েছে, এতদিন ঠিক ছিল বাংলাদেশের সীমান্তে আপাতত দুটি জায়গায় লেসার প্রাচীর বসানো হবে। কিন্তু আচমকা আইএসআইএস-এর অতি সক্রিয়তা এবং আগ্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের বাংলাদেশ সীমান্তে আরও বেশি করে লেসার প্রাচীর বসছে। সীমান্তে যেখানে নদী রয়েছে, সেখানে লেসার বিমও বসানো হবে। খবর-রেতে।
এসব এলাকা দিয়ে কেউ অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলেই আচমকা বেজে উঠবে সাইরেন এবং লেসার রশ্মির মাধ্যমে চলবে আঘাত। এরফলে গুরুতর আহত হবে ওই অনুপ্রবেশকারী। যেখানে লেসার বিম বা লেসার প্রাচীর থাকবে সেখানে ক্যামেরাও থাকবে। স্যাটেলাইট বেসড সিগন্যাল কমান্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে থাকবে সাইরেন, অ্যালার্ম আর ‘রে’ ক্ষেপণের প্রক্রিয়া।
বিএসএফের পক্ষ থেকে দুই বছর আগে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ সীমান্তে বিশেষ অত্যাধুনিক সীমান্ত সুরক্ষার যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল সে অনুযায়ী পাকিস্তান সীমান্তের ৪৫ টি স্থানে লেসার বিম ও লেসার প্রাচীর বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ৬ টি সীমান্ত এলাকায় এরইমধ্যে তা চালু হয়েছে।
আজ কোলকাতার ওই সংবাদপত্রটিতে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুদের এদেশে স্থায়ীভাবে নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করা হবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাদের সব ধরনের নাগরিক পরিচয়পত্রও দেয়া হবে। এ কারণেই আগামীতে যাতে জঙ্গি কিংবা অন্যকেউ বেআইনিভাবে ঢুকতে না পারে তা নিশ্চিত করতেই সীমান্ত সুরক্ষা আরো কঠোর করা হচ্ছে।

৪৭ বার পরীক্ষা দিয়েও ম্যাট্রিকে ফেল, তাই বিয়ে হচ্ছে না!

নিজের জন্য পাত্রী দেখতে যাওয়া আর হল না ৭৭ বছর বয়সী শিবচরণ যাদবের। নিজের করা প্রতিজ্ঞাই আটকে দিল তার বিয়ে। শপথ করেছিলেন ম্যাট্রিক পাশ না করে বিয়ে করবেন না।
তবে এবারেও সেই ম্যাট্রিক পরীক্ষায় পাশ করতে পারেননি ভারতের রাজস্থানের আলোয়ারের খোহরি গ্রামের এই বাসিন্দা। এ নিয়ে ৪৭ তম বারের মত চেষ্টাও ব্যর্থ হল তার।
শিবচরণ প্রথম পরীক্ষা দিয়েছিলেন ১৯৬৮ সালে। তারপর প্রতি বছর দিয়ে যাচ্ছেন পরীক্ষা। কিন্তু সাফল্য আর আসছে না। কোন বার ইংরেজিতে ফেল‚ তো কোন বার অকৃতকার্য গণিত-বিজ্ঞানে। আবার কোন সময়ে ব্যর্থতা হিন্দিতে। এ বার স্কুলের শিক্ষকদের সাহায্য নিয়েও লাভ হল না তার। পরীক্ষায় সর্ব সাকুল্যে নম্বর পেয়েছেন ৩৬।
মাত্র দু মাস বয়সে তিনি তার মাকে হারান। ১০ বছর বয়সে বাবাকেও হারান। যৌথ পরিবারে চাচাদের কাছেই মানুষ হয়েছেন। সংসার চলে সরকারি মাসোহারা আর মন্দিরের প্রসাদে। কিন্তু নিজের পণ থেকে একবিন্দু নড়বেন না শিবচরণ। নো স্কুল পাশ‚ নো বিয়ে। এখন বিয়ের আশা দূরে রেখে বিশ্বরেকর্ড করার আশা তার। তাই প্রস্তুতি নিচ্ছেন ৪৮ তম বারের পরীক্ষার জন্য।

ভারতে বজ্রপাতে বহু মানুষের মৃত্যু

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বজ্রপাতে অন্তত ৭৯ জন নিহত হয়েছে। এই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং মধ্যপ্রদেশে।
নিহতদের মধ্যে ৫৩ জন বিহারে, ১০ জন ঝাড়খণ্ডে এবং ১৬ জন মধ্য প্রদেশে।মঙ্গলবার বৃষ্টিপাতের সময় মাঠে অনেকে কাজ করছিলেন। এ সময় বজ্রপাতে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। খবর-বিবিসি’র।
বর্ষা মৌসুমে ভারতে বজ্রপাতে নিহত হবার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। যারা মারা গেছেন তাদের বেশিরভাগই কৃষক।বজ্রপাতে ২৪ ঘণ্টায় একসাথে ৭৯ জন ব্যক্তি মারা যাবার ঘটনা বিরল।
বিহার রাজ্যে নিহত প্রত্যেকটি পরিবারকে ৪লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিহারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বজ্রপাতে আগের চেয়ে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। বজ্রপাতে মানুষ মারা যাবার সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি বজ্রপাতের প্রবণতাও বেড়েছে।
কোন কোন গবেষক বলেন তাপমাত্রা এক ডিগ্রি বাড়লে বজ্রপাতের সম্ভাবনা ১০ শতাংশ বেড়ে যায়। পৃথিবীর যে কয়েকটি অঞ্চল বজ্রপাত প্রবণ তার মধ্যে দক্ষিণ-এশিয়া অন্যতম।
উন্নত দেশগুলোতে বজ্রপাতে মানুষের মৃত্যু কমলেও বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এ সংখ্যা বাড়ছে।
এসব দেশগুলোতে বজ্রপাতে যারা মারা যাচ্ছেন তাদের বেশিরভাগই মাঠে কাজ করেন।বাংলাদেশে চলতি বছর বজ্রপাতে প্রায় ১০০ জন মানুষ মারা গেছেন।

সোমবার, ২০ জুন, ২০১৬

এক অসাধারণ বাবার গল্প

ছেলেটির বাবা সরকারি চাকরিজীবী। মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ইত্যাদি স্থানে পেস্টিং। চল্লিশ ও পঞ্চাশ দশকের কথা বলছি। তখনকার বাংলাদেশের যাতায়াত ব্যবস্থা খুবই অনুন্নত। তাই কালেভদ্রে বাড়িতে স্ত্রী-পুত্র-কন্যাদের কাছে আসা হয়। ছেলেটাও তাই জন্মের পর বাবার সান্নিধ্য পায়নি বললেই চলে। তরপর এই বাবাও একদিন সৃষ্টিকর্তার কাছে চলে যান। তখন ছেলেটির বয়স মাত্র ছয়। সাত মাস বয়সী ছোট বোনসহ পরিবারে মা ও আরও তিন ভাই, বড় দুই বোন। পরিবারটিও যথেষ্ট সচ্ছল নয়। তাই বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের কষ্ট লাঘবের জন্য ছেলেটি চলে যায় তার ফুপুর বাড়িতে। এমনই শৈশবে বড় হওয়া ছেলেটি আমার বাবা, আমাদের চার বোনদের প্রিয় আব্বু।
আব্বু ছোটবেলা থেকেই কঠিন বাস্তবতা ও কষ্টের মধ্যে বড় হন। ম্যাট্রিক পাসের পর ঢাকায় এসে উপার্জনের চেষ্টা করেন। তারপর সরকারি চাকরিতে যোগদান ও বর্তমানে অবসর জীবনযাপন। কিন্তু এই আপাতদৃষ্টিতে গতানুগতিক জীবনচক্রে আব্বু কোনো গতানুগতিক ব্যক্তি নন। চার কন্যার জনক; কিন্তু কোনো দিন সমাজের অন্যান্যদের মতো একটি পুত্র সন্তানের আফসোস তার কোনো দিনই ছিল না, এখনো নাই। বরং হৃদয় উজাড় করে ভালোবাসা বলে যদি কিছু থাকে, আব্বু তার কন্যাদের সেভাবেই ভালোবাসেন। তার কন্যারা সবাই বর্তমানে ত্রিশ ঊর্ধ্ব। তারপরও তাদের নাবালিকা জ্ঞান করে সেভাবেই ভালোবাসেন, যত্ন করেন। কিছু উদাহরণ না দিলেই নয়। এখনো সত্তর ঊর্ধ্ব বয়সে তার কন্যাদের বিশেষ অফিস মিটিং, বিশেষ অনুষ্ঠানে তার নিজ হাতে ইস্ত্রি করা কাপড় পড়ে যেতে হবে, কারণ এই কাজে তিনি খুব পারদর্শী, এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। ছয় বছরের প্রবাস জীবনে প্রায় ফি-বছরই দেশে যাওয়া-আসা করেছি। প্রতিবারই লাগেজ গোছানো, প্রতিটি জিনিস শৈল্পিকভাবে বাঁধা, প্যাক করাসহ লাগেজ ওজন করে তৈরি করা অবস্থায় পেয়েছি। বিদেশে প্রতিটি ঈদে কন্যার জন্য নতুন পোশাক পাঠাবেন এবং এটা তাকে নিজেই পোস্ট করতে হবে। রমজান বা কোরবানির হাটের দীর্ঘ যানজটে চিঁড়েচ্যাপ্টা হয়েও এটা নিয়মিতভাবে করে আসছেন। এই ভালোবাসা তার প্রবাসী কন্যাকেও ছুঁয়ে যায়। সেও এটা দারুণভাবে অনুভব করে। তাইতো পাঠানো পোশাকের তার আব্বুর অনেক যত্ন করে করা প্যাকেটটিও সে সহজে ফেলতে চায় না। ফেলার সময় দুফোটা অশ্রুবিসর্জন হয়। ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছি ঘর-গৃহস্থালির প্রতিটি কাজে আব্বুর সক্রিয় অংশগ্রহণ। তার নিজ মা-ভাই-বোনদের সামনে এসব কাজে কোনো দিন জড়তা দেখিনি। আম্মার ন্যূনতম কষ্ট ও অসুবিধা কখনো হতে দেন না। নিজের কোনো কাজ আম্মাকে বা আমাদের এখনো করতে দেওয়ায় অস্বস্তিবোধ করেন। যা বাংলাদেশি ছেলেদের সাধারণ চরিত্র নয়। শুধু তাই নয়, কন্যাদের জন্য বাড়ির ছাদে শীতের দুপুরে লেপ রোদ দিয়ে রাখেন এবং তার কন্যারা এই লেপের উষ্ণতায় তাদের আব্বুর ভালোবাসা অনুভব করে ঘুমাতে যায়। শীতের রাতে ফজর ওয়াক্তে নিজ হাতে ওজুর পানি গরম করা, তারপর সঠিক উষ্ণতার পানি রেডি করে কন্যাকে নামাজের জন্য ডেকে দেওয়া—এগুলো কিন্তু খুব সাধারণ মনোযোগ বা ভালোবাসা নয়। শক্ত আখ যা দাঁত কামড়ে খেতে তার স্ত্রী-কন্যাদের কষ্ট হতে পারে, তাই এটা নিজে ছোট টুকরা করে কেটে ফ্রিজে রেখে তারপর তাদের সামনে উপস্থাপন করা; আব্বু ছাড়া অন্য কেউ ভাবতে পেরেছে কিনা আমার জানা নেই। এ রকম অসংখ্য ব্যতিক্রমী উদাহরণ আছে। আমরা বলি ভালোবাসা-যত্নে আমাদের আব্বু সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল ও সৃজনশীল।
ব্যক্তি ও পেশাগত জীবনে অসম্ভব সৎ ও নির্লোভ এই মানুষটির তার কন্যাদের প্রতি কড়া নির্দেশ—যাই হোক বা করো না কেন কখনো মিথ্যা বা অসত্য বলবে না। সততার জন্য এই প্রাথমিক পাঠের যে কত বড় ভূমিকা তা এখন বেশি অনুভব করি। কারণ মিথ্যাই সকল অন্যায়ের জনক। কঠিন শাসন ও ভালোবাসা এই দুটির সমন্বয়ে কন্যাদের বড় করেছেন। তাই তার কন্যাদের ব্যক্তি ও পেশাগত জীবনের এখন পর্যন্ত যেকোনো অর্জন, প্রশংসা শুধু তাদের একার নয়, তাদের আম্মা-আব্বুরও বটে। কন্যাদের পড়ালেখা ও ক্যারিয়ারের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ-প্রচেষ্টা যদি কিছু থেকে থাকে তবে সেটা আব্বু, আম্মাকে সঙ্গে নিয়ে করেছেন। সামাজিক গোঁড়ামি ভেঙে, ছেলেমেয়ের কাজের পার্থক্য না করে কন্যাদের আত্মবিশ্বাসী, স্বনির্ভর, উদ্যমী করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। যেকোনো কাজ যেটা শুধু পেশাগত নয়, যেমন দৈনন্দিন বাজার থেকে শুরু করে বাড়ি নির্মাণের সরঞ্জামাদি কেনা পর্যন্ত সবই তিনি কন্যাদের করতে উপযোগী করেছেন এবং সফলও হয়েছেন বলা যায়। কন্যার ইচ্ছার প্রতি প্রাধান্য দিয়ে বিয়ের যোগ্য কন্যাকে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠিয়েছেন। তারপর কন্যার কৃতিত্বের সঙ্গে প্রেস্টিজিয়াস বার-এট-ল ডিগ্রি অর্জনে অন্যদের মতো আবেগের বাড়াবাড়ি নয়, বরং নফল নামাজের মাধ্যমে আল্লাহপাকের শোকরিয়া আদায় করেছেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত ও আর্থিকভাবে সচ্ছল কন্যারা তাকে কোনো দামি ঘড়ি, জুতা, পাঞ্জাবি কিনে দিতে পারে না। কারণ তার এসব জাগতিক কিছুর প্রতি আগ্রহ নাই। তিনি অসমর্থ ও অসচ্ছলদের দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। তাই কন্যারা আব্বুকে ভালোবাসা ও সম্মান দেওয়ার চেষ্টাই করে। তিনি তার কন্যাদের এখনো সবচেয়ে প্রিয় সঙ্গী, সবচেয়ে নিশ্চিত আশ্রয়। তার কন্যারা তাদের ব্যক্তি ও পেশাগত জীবনের সব ভালোমন্দ, সুখ-দুঃখসহ যেকোনো অভিজ্ঞতা তার সঙ্গেই শেয়ার করে, তার মতামতকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।
আব্বুর ভালোবাসা শুধু তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সীমাবদ্ধ নয়; যেকোনো অসহায়, আর্তের সেবা (অপরিচিত হলেও সমস্যা নেই) আব্বুর মতো কেউ করতে পারবে না। গ্রাম থেকে রোগী এনে হাসপাতালে ভর্তি, সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের মাঝেও তাদের চিকিৎসার চেষ্টা, তাদের নিয়মিত সেবা, পরিচর্যা, রক্তদান ইত্যাদি করেছেন। ঈদের পরের দিন টিফিন ক্যারিয়ারে করে যে কোনো হাসপাতালে খাবার নিয়ে গেছেন। এখনো এই বয়সে এলাকায় বা পরিচিত কেউ অসুস্থ হলে প্রতিদিন নিয়ম করে দেখতে যান, সাহস দেন। এলাকায় এমন কোনো বাড়ি নেই যাদের আব্বু গাছ নিজ হাতে লাগিয়ে দেন না বা গাছের চারা তৈরি করে এবং নিজ গাছের ফল, সবজি বিতরণ করেন না। তাদের যেকোনো বিপদে সবার আগে পাশে দাঁড়ান। সবাইকে সব সময় সবচেয়ে সৎ উপদেশ প্রদান করেন। শুধু তাই নয় এলাকার কোনো বিড়াল, কুকুর এমনকি পাখিরাও তার স্নেহ বঞ্চিত নয়। বিড়াল, কুকুরদের জন্য বাজার থেকে খাবার আনা, ছাদে সব সময় পাখিদের জন্য খাবার ও পানি রাখা আব্বুর প্রতিদিনের রুটিন।
পৃথিবীর সব বাবাই শ্রেষ্ঠ বাবা; সব বাবাই তার সন্তানদের সর্বোচ্চ ভালোবাসেন। তারপরও ভালোবাসার একাগ্রতা বা মনোযোগ, যত্ন ও প্রকাশ ভঙ্গিতে পার্থক্য থাকে। মাত্র ছয় বছর বয়েসে পিতৃহীন, পরবর্তীতে নিজ পরিবারের সান্নিধ্যহীন হয়ে বড় হওয়া এই ব্যক্তিটি কীভাবে এত যত্নশীল, এত আধুনিক, এত বেশি সংবেদনশীল, এত প্রগতিশীল আর কীভাবে সত্যিকারভাবে সু ও স্বশিক্ষিত—এই প্রশ্ন আব্বুকে অনেকবারই করেছি। আব্বু প্রতিবারই হেসে বলেন, এটা শুধু আমার মনের ভাবনা, আসলে আব্বু খুব সাধারণ। কিন্তু আব্বু কী শুধুই সাধারণ, কখনোই না। এটা আমাদের কথা নয়; আত্মীয়-পরিজন ও প্রতিবেশীদের কথা। তারা বলেন, কন্যা সন্তানের জনক হয়েও আমাদের আব্বুর মতো করে কাউকে মেয়েদের এত ভালোবাসা-যত্ন করতে পারেনি বা করতে দেখেননি। সুতরাং আমরা যেন আব্বুর প্রতি সেরকমই ভালোবাসা প্রকাশ করি ও যত্নশীল হই। তাদের এই উপলব্ধি ও উপদেশ আমাদের একই ভাবে গর্বিত ও সচেতন করে। আব্বুকে নিয়ে কথা, লেখা শেষ হওয়ার নয়, তবুও অত্যন্ত পরিচিত একটি বাণী দিয়ে শেষ করছি। সেই উত্তম, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম—আমাদের আব্বু উত্তম, অতি উত্তম; আমাদের কাছে, সবার কাছে। মহান আল্লাহ তালা আমাদের আব্বুকে সুস্থ রাখুন, হায়াত দান করুন, আমাদের তার সেবা করার তৌফিক দান করুন।

রবিবার, ১৯ জুন, ২০১৬

পাহাড়ি সিংহের মুখে সন্তান, রক্ষা করলেন মা

গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো ঘটনা। জলজ্যান্ত পাহাড়ি সিংহের মুখে পড়েছিল পাঁচ বছরের শিশুটি। টের পেয়ে শিশুটির মা কালবিলম্ব করেননি। রীতিমতো ঝাঁপিয়ে পড়ে সিংহের মুখ থেকে সন্তানকে রক্ষা করেছেন তিনি।
আজ রোববার বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে গত শুক্রবার রাতে এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।শিশুটিকে উদ্ধারের পর ডেনভারের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মুখ, মাথা ও ঘাড়ে আঘাত আছে। তবে তার অবস্থা এখন ভালো।
খবরে বলা হয়, নিজেদের বাড়ির সামনের উঠানে শিশুটির ওপর হামলা করে সিংহটি। এ সময় শিশুটি চিৎকার করে। চিৎকার শুনে শিশুটির মা ঘর থেকে দৌড়ে বেরিয়ে আসেন। সন্তানের ওপর সিংহটিকে দেখতে পান তিনি। শিশুটিকে কামড়ে ধরেছিল সিংহটি।
এমন দৃশ্য দেখে মা তাঁর সন্তানকে রক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি সিংহের একটি পা আঁকড়ে ধরেন। একই সঙ্গে নিজের ডান হাত সিংহের মুখের ঢুকিয়ে দেন। হাত দিয়ে সিংহের মুখ খুলে সন্তানের মাথা বের করে আনেন তিনি।
সন্তানকে রক্ষা করতে গিয়ে মা নিজেও কিছুটা আহত হয়েছেন। তাঁর হাতে সিংহের কামড়ের দাগ পড়েছে। পায়ে পড়েছে আঁচড়।

ঘটনার পর সিংহটি দৌড়ে পালিয়েছে। সিংহটির বয়স বছর দুয়েক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুর ওপর হামলার ঘটনার পর তারা ওই এলাকায় দুটি সিংহ হত্যা করেছে।

শনিবার, ১৮ জুন, ২০১৬

বাংলাদেশী শ্রমিক পাচ্ছেন ৬ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ

সিঙ্গাপুরে কাজ করতে গিয়ে প্যারাইলাইসিস হয়ে যাওয়া বাংলাদেশী শ্রমিক তরুণ কুমার সাহা (৩২)কে ৬ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে সিঙ্গাপুরের এক আদালত। গতকাল আদালত ওই রায় দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে সিঙ্গাপুরের পত্রিকা দ্য স্ট্রেইটস টাইমস। এতে বলা হয়, ২০১৩ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সময় তার ওপর একপি ফর্কলিফট ছিড়ে পড়ে। এতে তরুণ কুমার মেরুদ-ে মারাত্মক আঘাত পান। তিনি তখন গ্রান্ড হায়াত হোটেলের সংস্কার কাজ করছিলেন। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় তান টোক সেং হাসপাতালে। সেখানে অপারেশনের পর তিনি স্থিতিশীল পর্যায়ে আসেন। কিন্তু তার মেরুদন্ড ও ডান পায়ের হাঁটুতে ফ্রাকচার বা ফাটল রয়েই যায়। ওই হাসপাতালে তাকে মানসিক চিকিৎসাও দেয়া হয়। এরপর তাকে প্রায় দু’মাস পরে একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে পাঠানো হয়। তার প্রতি অবহেলার জন্য তিনি তার নিয়োগকারী, সাব কন্ট্রাক্টর চুন কন্সট্রাকশন, প্রধান সাইট কন্ট্রাক্টর হুপ ইউ সেন কন্সট্রাকশনের বিরুদ্ধে আইনজীবি প্রিতম সিং গিলের মাধ্যমে মামলা করেন। মামলার বিবাদী প্রথমে যুুক্তি দেখান দুর্ঘটনার জন্য তরুণও অংশত দায়ী। কিন্তু গত বছরের অক্টোবরে দুই কন্ট্রাক্টরই শতকরা ৮৫ ভাগ দায় মেনে নেন। এ নিয়ে দু’দিন শুনানি হয়। সেই শুনানি শেষ হয় শুক্রবার। জুডিশিয়াল কমিশনার ভ্যালেরি টিয়েন নির্দেশ দেন যে, তরুণ যে কষ্ট পেয়েছেন তার জন্য ৩ লাখ ২৩ হাজার ৭০০ ডলার, দুর্ভোগ ও ভবিষ্যতে উপার্জনের পথ নষ্ট হওয়ায় ও চিকিৎসা খাতে তাকে আরও ২ লাখ ২৫ হাজার ৭২১ ডলার দিতে হবে। এ ছাড়া আইনী লড়াই বাবদ তাকে আরও ৫০ হাজার ডলার দেয়ার নির্দেশ দেন বিচারক। এই অর্থে তরুণ খুব স্বস্তিতে থাকবেন না। তিনি বলেছেন, আমি তো অর্থ পাবো। কিন্তু জীবনে তো কিছু করতে পারবো না। তিনি ২০১০ সালে সিঙ্গাপুরে যান। সেখানে তিনি সাইট সুপারভাইজারের অধীনে একজন সহকারী কনস্ট্রাকশন শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। তিনি খেলাধুলায় সক্রিয় ছিলেন। বিয়ে করার পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু পঙ্গু হয়ে পড়ায় তার সেই মনের মানুষ তাকে ছেড়ে গেছেন। তরুণ বলেন, চিকিৎসকরা যখন আমাকে প্রথম বললেন যে, আমি স্থায়ীভাবে প্যারালাইজড তখন সারা পৃথিবী আমার কাছে অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। আমি আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলাম। তিনি তার পরিবারের একমাত্র ছেলে ও উপার্জনক্ষম। বর্তমানে ৭৫ বছর বয়সী পিতা ও ৭০ বছর বয়সী মাকে নিয়ে বসবাস করেন বাংলাদেশেই। ঢাকা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে তাদের বাড়ি। ওই রিপোর্টে তার গ্রামের নাম প্রকাশ করা হয় নি। তিনি বলেন, আমাকে হুইলচেয়ারে দেখতে পেয়ে আমার পিতামামা ভেঙে পড়েছিলেন। আমিও ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু সেটা প্রকাশ করি নি। আমি তাদেরকে সেটা বুঝতে দিই নি। কারণ, তারা আমার হতাশার কথা বুঝতে পারলে আরও ভেঙে পড়বেন। অসুস্থ হযে পড়বেন। এখন তরুণ একা চলতে পারেন না। তাকে দেখাশোনার জন্য প্রয়োজন সার্বক্ষণিক একজন পুরুষ সেবক। গত রাতে তিনি ঢাকার উদ্দেশে বাড়ি ছেড়েছেন।
 
সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ বাংলা তরঙ্গ ডিজাইন বাংলা তরঙ্গ