শরীয়তপুরে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে বাল্য বিয়ে দিল গ্রাম্য মাতুব্বররা।
২৫জুন শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে জেলার গোসাইরহাট উপজেলার আলাওলপুর ইউনিয়নের আজিজ
কাজির কান্দি গ্রামে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৩৬নং পশ্চিম কোদালপুর
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী তানিয়া আক্তার (১১) কে
স্থানীয় গ্রাম্য মাতুব্বররা নীজ দায়ীত্বে স্থানীয় বেপারী বাড়ির মসজিদের
ইমাম বরিশালের ছেলে হারুন খান (২৫) এর সাথে শনিবার সকালে বিয়ে দেয়।
স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় মাতুব্বর সূর্য কাজি, মেস্তাফা বেপারী, সিরাজ
বেপারী ও আবুল কাজি শনিবার সকাল ৯টার দিকে মেস্তাফা বেপারীর বাড়িতে বেপারী
বাড়ির মসজিদের ইমাম হারুন খানকে নিয়ে উপস্থিত হয়। এ সময় নজু কাজি তাদের
সাথে ছিলো। তারা নীজ দায়িত্বে তানিয়া আক্তারকে হারুন খানের সাথে বিয়ে দেয়।
স্থানীয় সাব-কাজি পরিচয়ধারী নজরুল কাজি (নজু কাজি) বলেন, মেয়ের বয়সের
প্রয়োজন নেই । মেয়ের মা-বাবা বলেছে মেয়ের বিয়ের বয়স হয়ে গেছে তাই বিয়ে
পড়িয়েছি।
৪নং ওয়ার্ড মেম্বার সিরাজ বেপারী বলেন, নজরুল কাজি (নজু কাজি) এই বিয়ে
রেজিষ্ট্রেশন করেছে। তবে নজু আমাদের ইউনিয়নের কাজী নয়। অভিযোগ আছে নজু কাজি
ভূয়া কাগজে বিয়ে রেজিষ্ট্রি করে।
মেয়ের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার মেয়ের বিয়ের বয়স হয়েছে। এ অঞ্চলে কম বয়সেই মেয়েদের বিয়ে দিতে হয়, তা নাহলে সমস্যা হয়।
আলাওলপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বেপারী বলেন, আমি তানিয়া
আক্তারকে জন্মনিবন্ধন সনদে সাবালিকা ঘোষনা করিনি। তানিয়া নাবালিকা। ওর
বিয়ের বিয়য়ে আমি কিছুই জানি না। আমি তো অনেক আগেই আমার ইউনিয়নকে বাল্য বিয়ে
মুক্ত ঘোষনা করেছি।
গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সগীর হোসেন বলেন, ব্যাপারটি আমি
জানলাম । আমি এখন গোসাইরহাট থানার ওসিকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলছি।
