জঙ্গি দমনের নামে প্রহসনের এক চরম নাটক অনুষ্ঠিত হচ্ছে এমন মন্তব্য করে
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন উগ্রবাদী চক্রের
সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, দেশব্যাপী জঙ্গি দমনের নামে বিএনপি’র সাধারণ
সমর্থকদের থেকে শুরু করে, নেতা-কর্মীদের পুলিশ গ্রেফতার করে জেলে পুরেছে।
সাধারণ নিরীহ নিরাপরাধ মানুষও সরকারের গ্রেফতারি অভিযান থেকে রেহাই
পায়নি। তিনি বলেন, ভোটার বিহীন সরকারের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিএনপির
নেতাকর্মীদের ওপর ক্র্যাক ডাউন এবং অপপ্রচার চালিয়ে দলটির সমুলে বিনাশ সাধন
করার চক্রান্ত করা হচ্ছে।
শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তারা
বলছেন- ঘটনা ঘটাচ্ছে জঙ্গিরা। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি- গ্রেফতার হচ্ছে
ফেরীওয়ালা, দোকানদার, গাড়ীর ড্রাইভার, ভাড়াটিয়া ও ছাত্রসহ নানা স্তরের
মানুষ। জঙ্গি দমনের নামে প্রহসনের এক চরম নাটক অনুষ্ঠিত করছে সরকারি
দায়িত্বশীল লোকেরা। মামলা হচ্ছে, তদন্ত হচ্ছে, কিন্তু কুপিয়ে হত্যাকারী
প্রকৃত অপরাধীরা অধরাই থেকে যাচ্ছে। হত্যা রহস্যের কোন কুল-কিনারাই বের
হচ্ছে না।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার জঙ্গি তৎপরতা দমন করতে যে নিষ্ঠুর পদ্ধতি
গ্রহণ করেছে সেটিতে প্রকৃতপক্ষে জঙ্গিদের উৎপাত বন্ধ নয়, বরং সরকার যে একটা
বিশেষ এজেন্ডা নিয়ে কাজ করেছে, সেটি এখন সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হচ্ছে।
তাদের সেই এজেন্ডাটা হচ্ছে বিএনপিসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মীদেরকে
জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করা। কারণ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা থেকে শুরু করে
মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের সকল যন্ত্র সরকারের হাতে।
তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার সরকার দেশে জঙ্গি দমনের নামে দেশবাসীকে
কঙ্কালে পরিণত করতে চাচ্ছেন। সরকারের উদ্দেশ্য শুভ নয় বলেই তাদের জঙ্গিবাদ
বিরোধী অভিযান এখন জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ জঙ্গিরা তাদের
কর্মকান্ডের গতি হ্রাস করেছে বলে মনে হয় না। ইতোমধ্যে রামকৃষ্ণ মিশনে আইএস
এর হুমকি, মন্দিরের সেবায়েতকে হুমকি, বরিশালে একজন শিক্ষককে আঘাত করা
ইত্যাদি ঘটনাতে মনে হয় উগ্রবাদী চক্র বহাল তবিয়তেই তাদের মহা পরিকল্পনা
নিয়ে ব্যস্ত আছে।
এছাড়া ভোটারবিহীন সরকারকে তার পাপস্খালনের জন্য সকল অনাচার, উৎপীড়ন,
জুলুম-নির্যাতন, পুলিশের বেপরোয়া আচরণ বন্ধ করে মানুষের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া
গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে অবিলম্বে অবাধ, শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ ও
নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার আহ্বান জানান তিনি।