নারায়ণগঞ্জ সিটির গলাচিপায় স্ত্রীর পরকীয়ার বলি স্বামী সিরাজের আত্মহননের ঘটনায় অবশেষে মামলা নিয়েছে ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ।
২৫ জুন শনিবার আত্মহননকারীর বোন তাছলিমা আক্তার নিজে বাদী হয়ে ৭ জনের
নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামী আত্মহননকারীর
সিরাজের স্ত্রী রোমানা। বাকি আসামীরা হলো, উর্মি, নুরু, সেলিম, কল্পনা
করিম, সমা, কাইল্লা ইকবালসহ আজ্ঞাত নামা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আত্মহননকারী সিরাজের স্ত্রী রোমানাকে গ্রেফতার করে কোটে প্রেরণ
করা হয়েছে। এ দিকে শনিবার সন্ধ্যায় ময়না তদন্ত শেষে সিরাজের লাশ তার
পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহত সিরাজের বোন তাছলিমা আক্তার জানান, মৃত্যুর আগে আমার ভাই যার যার
নাম উল্লেখ করে গেছেন তাদের সবাইকে আসামী করা হয়েছে। আসামীরা হলো রোমানা,
উর্মি, নুরু, সেলিম, কল্পনা করিম, সমা, কাইল্লা ইকবাল সহ আজ্ঞাত নামা।
শনিবার সন্ধ্যায় ময়না তদন্ত শেষে আমার ভাইয়ের লাশ আমাদেরকে বুঝিয়ে দেয়া
হয়েছে। ডেমরা সারলিয়া এলাকায় তাকে দাফন করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানান,
৭ জন সহ অজ্ঞাত নামা আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নাম্বার ৮২)।
মামলার প্রধান আসামী রোমানাকে গ্র্রেফতার করে কোর্টে প্রেরন করা হয়েছে।
এবং বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানায়, গলাচিপা কলেজ রোড চেয়ারম্যান বাড়ী সংলগ্ন এলাকার
আশরাফুজ্জামান মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া সেলিম দীর্ঘ ৯ বছর যাবৎ স্ত্রী ও
সন্তানকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলো। সেই সাথে স্ত্রী রোমানা বাড়ির নিচ তলায়
রংধনু নামে একটি পার্লার পরিচালনা করতো। আর তাকে সহযোগিতা করতো তার আপন দুই
বোন। সেই সুবাদে এলাকার বখাটেদের সাথে রোমানা ও তার বোনদের মধ্যে অবৈধ
সর্ম্পক গড়ে উঠে। আর তাতে বাধা প্রদান করায় বখাটেদের দিয়ে বিভিন্ন সময়
স্ত্রী ও শ্যালিকা সিরাজকে মারধর ও অপমান করাতো।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে চাঁদপুর উত্তর মতলব থানাধীন ছেঙ্গার চর এলাকার মৃত
বজলুল মিয়ার মেয়ে রোমানার সাথে দক্ষিন মতলব একলাসপুর এলাকার মৃত মোবারক
আলীর ছোট ছেলে সিরাজুল ইসলাম পারিবারিক ভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
