শিরোনাম
চট্টগ্রাম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
চট্টগ্রাম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০১৬

মিতু হত্যাকান্ড: মূল হোতাকে বাঁচাতে মুসা গুম!

‘গত ২২ জুন ভোরে আমাদের বন্দরের নতুন বাসায় আসে পুলিশ। তাদের সঙ্গে ছিল মুসার বন্ধু নবী। তখন মুসা বাসায় ছিল না। কোথায় আছে জানতে চাইলে আমি বলি জানি না। তখন পুলিশ কর্মকর্তারা আমার ফোনটি নিয়ে নেয়। ওই ফোন দিয়ে নবী ফোন করে মুসাকে। বলে আমরা ঝামেলায় আছি তুই তাড়াতাড়ি তোর বাসায় আয়। কিছুক্ষণ পর মুসা বাসায় আসে। এরপর পুলিশ কর্মকর্তারা নবী ও মুসাকে নিয়ে চলে যায়। এরপর তার আর কোন খোঁজ নেই। আমরা জানি সে পুলিশ হেফাজতে আছে, তাই অন্য কোথাও তাকে আমরা খুঁজিনি।’- ইত্তেফাক।
গতকাল বুধবার এ কথা বলেন পুলিশের সোর্স মুসার স্ত্রী পান্না আক্তার। এখন প্রশ্ন উঠেছে, মুসা তাহলে কোথায়? কারণ এই মুসাকে ঘিরেই আটকে রয়েছে দেশের এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার রহস্য। ঘটনার ২৫ দিন পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে মিতু হত্যার এই মূল সমন্বয়ক। তবে পুলিশ বলছে, মুসাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। কিন্তু তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশের এমন বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মুসার স্ত্রী পান্না আক্তার। তার ধারণা, এই হত্যার মূল হোতাকে বাঁচাতে মুসাকে গুম করা হয়েছে।
এদিকে মিতু হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন পাঁচজনের দেশ ছাড়ার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পুলিশ। এরা হলেন- মুসা, রাশেদ, নবী, শাজাহান ও কালু। গতকাল চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) পক্ষ থেকে এ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বাংলাদেশের সব স্থল ও বিমানবন্দরে বার্তা পাঠানো হয়। পুলিশ বলছে, মিতু হত্যাকাণ্ডে এরা সরাসরি জড়িত ছিলো।
মুসার পরিবারের সদস্যরা বলছেন, মুসা ও তার বড় ভাই সাইদুর রহমান সিকদারকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। মুসার সঙ্গে তাদের আর কোনো যোগাযোগ নেই। মুসা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন, এমনটা জেনেই তারা কোনো আইনি পদক্ষেপও নেননি। তারা জানান, মুসার মুখোমুখি করতেই বাবুল আক্তারকে গত শুক্রবার গভীর রাতে পুলিশ তার ঢাকার শ্বশুরের বাসা থেকে নিয়ে যায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল শনিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকে জানান, মিতু হত্যার কয়েকজন আসামির মুখোমুখি করার জন্য বাবুল আক্তারকে আনা হয়েছে। তবে গতকাল পর্যন্ত তিনি বলেননি ওই আসামি কারা ছিল। সঙ্গত কারণেই মানুষ ধরে নিয়েছে ওই আসামিদের মধ্যে মুসাও ছিল। অথচ পুলিশ দাবি করছে মুসাকে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না।
পুলিশের এই দাবি যদি সত্যও হয়, তাহলে মুসা কোথায় গেল? এটাই এখন মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন! পুলিশ ছাড়াও কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা মিতু হত্যার তদন্তে নিয়োজিত। গত এক সপ্তাহ তাদের কারো কাছ থেকেই মুসাকে হেফাজতে নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি। স্বাভাবিক কারণেই সাধারণ মানুষ এখন ভাবতে বাধ্য হচ্ছে যে মুসাকে কি তাহলে গুম করা হয়েছে! মিতু হত্যার নেপথ্য কুশীলবকে আড়াল করতেই কি মুসাকে গুম করা হলো! প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করে মুসাকেই কি বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে। এমন অনেক প্রশ্ন থাকলেও কোনটিরই উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।
সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার গতকাল বলেন, মিতু হত্যাকাণ্ডের ‘মূল জায়গা’ হলো মুসা। তাকে ধরার সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। মুসার পরিবারের দাবি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘একটা মানুষ এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ। তাকে যদি কেউ ধরে নিয়ে থাকে তাহলে প্রেসের মাধ্যমে তা প্রকাশ করার সুযোগ ছিল। পরিবারের উচিত ছিল এ বিষয়ে থানায় জিডি করা বা আমাদের নলেজে নিয়ে আসা। কিন্তু তারা সেটা করেননি।’
মুসাকে ঢাকায় বাবুল আক্তারের মুখোমুখি করা হয়েছিল কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। কাদের মুখোমুখি করা হয়েছে বা করা হয়নি তা আমার জানা নেই। মুখোমুখি করার কথা মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘সংবাদ প্রচারের জন্য আপনারা (গণমাধ্যম) যেভাবে মরিয়া হয়েছেন সেটা ঠিক নয়। আপনারাই যদি সমস্ত কিছু বিশ্লেষণ করতে থাকেন তাহলে কিন্তু তদন্ত হয় না।’
মুসার স্ত্রী’র বক্তব্য: মুসার স্ত্রী পান্না আক্তার জানান, পুলিশ গত ১২ জুন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় মুসার বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় মুসার তিন ভাইকে আটক করে নিয়ে যায়। পরদিন ভাইদের নিয়ে নগরীর কালামিয়া বাজার এলাকায় মুসার বাসায় অভিযান চালায়। তবে ইতিমধ্যে তারা বাসা পরিবর্তন করে ফেলায় মুসাকে ওই বাসায় পাওয়া যায়নি। পরে মুসার বন্ধুর নবীর কাছ থেকে তথ্য নিয়ে গত ২২ জুন ভোরে বন্দর এলাকায় মুসার নতুন বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় মুসা বাসায় ছিলেন না। পরে পান্না আক্তারের মোবাইল ব্যবহার করে নবীকে দিয়ে মুসাকে ফোন করায় পুলিশ। ফোন পেয়ে মুসা বাসায় আসে। এরপর সেখান থেকে মুসাকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়।
ভিডিও ফুটেজ দেখেও মুসাকে চিনতে পারেনি পুলিশ : মিতু খুন হওয়ার পরপরই তিন খুনির মোটরসাইকেলে চলে যাওয়ার দৃশ্য ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে। আটক একজনের জবানবন্দিতে জানা গেছে, এই তিনজন ছিল মুসা, ওয়াসিম ও নবী। এর মধ্যে মুসা ছিল পুলিশের সোর্স। বাবুল আক্তারের সোর্স হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে মুসা। এই সুবাদে সিএমপিতে তার নিয়মিত আসা-যাওয়া ছিল। চট্টগ্রামের অনেক পুলিশ কর্মকর্তাই মুসাকে ভালোভাবে চেনার কথা। কিন্তু মিতু খুনের ভিডিও ফুটেজ দেখার পরও এসব কর্মকর্তা কেন মুসাকে শনাক্ত করতে পারলেন না, সেটা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এমনকি বাবুল আক্তারও ভিডিও ফুটেজ দেখে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুসাকে চিনতে পারলেন না কেন, সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাহলে কি চিনতে পেরেও মুসাকে তারা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন?
পাঁচজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা : সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার বলেন, ‘পাঁচজন যাতে দেশের বাইরে যেতে না পারে, সে জন্য স্থল ও বিমানবন্দরগুলোকে পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।’ মিতু হত্যাকাণ্ডে ‘সরাসরি জড়িত’ মোতালেব মিয়া ওয়াসিম ও আনোয়ার হোসেনের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এই পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতার কথা এসেছে। ওয়াসিম ও আনোয়ারকে গত শনিবার গ্রেফতারের পর সিএমপি কমিশনার বলেছিলেন, ‘জিইসি মোড়ের কাছে মিতু হত্যাকাণ্ডে সাত-আটজন অংশ নিয়েছিল। এদের মধ্যে ওয়াসিম গুলি চালান, আনোয়ার অনুসরণকারী ছিলেন।’ পরে তাদের জবানবন্দির ভিত্তিতে ওই হামলার ‘অস্ত্র জোগানদাতা’ এহতেশামুল হক ভোলা ও মনির হোসেন নামে দু’জনকে গত মঙ্গলবার গ্রেফতারের কথা জানায় পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত ৫ জুন চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে মাহমুদা খানম মিতুকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার ও স্বামী এসপি বাবুল আক্তারকে ১৫ ঘন্টা নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পুলিশ ‘জিজ্ঞাসাবাদ’ করলেও খুনের মূল নির্দেশদাতার পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

মঙ্গলবার, ২৮ জুন, ২০১৬

চট্টগ্রাম: পাঁচ কেজির বাটখারার ওজন সাড়ে তিন কেজি!

মাংস বিক্রেতার দোকানে পাঁচ কেজি ওজনের বাটখারার ওজন পরিমাপ করে দেড় কেজি ওজন কম পাওয়া গেছে। এই অপরাধে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শনিবার চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের (র‍্যাব)  নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।
অভিযানে র‍্যাব-৭–এর উপ–অধিনায়ক মেজর মো. জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী পরিচালক জালাল উদ্দিন, চন্দন দেবনাথ ও বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, বেলা সাড়ে ১১টায় রেয়াজউদ্দিন বাজারে অভিযান চালায় র‍্যাব। অভিযানে দেখা যায়, রেয়াজউদ্দিন বাজারের মাংস বিক্রেতা আলী আকবর পাঁচ কেজির বাটখারায় দেড় কেজি চুরি করছিলেন। তাঁর পাঁচ কেজি ওজনের বাটখারাটি মেপে সাড়ে তিন কেজি পাওয়া গেছে। ওজনে কম দেওয়া ছাড়াও আলী আকবর গরুর মাংসের সঙ্গে মহিষের মাংস মিশিয়ে বিক্রি করছিলেন। এসব অপরাধের কারণে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাটখারায় কম ওজন পাওয়া যাওয়ায় একই বাজারের আরও চার মাংস বিক্রেতাকে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাঁরা হলেন শফিকুল ইসলাম, তুহিন মিয়া, আবুল হোসেন ও আবদুল রশিদ।
র‍্যাব সূত্র জানায়, নগরের সাগরিকা রোডে ফ্লেভারসের কারখানায় বেলা সাড়ে তিনটার দিকে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় নোংরা পরিবেশ ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ব্যবহারের কারণে আট লাখ টাকা জরিমানা করা হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বাকলিয়ায় ফুলকলির কারখানায় অভিযান চালান একই ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে খাবার উৎপাদনে মেয়াদোত্তীর্ণ রং ব্যবহার ও ফাঙাশ পড়া কেক-মিষ্টি বিক্রির জন্য সংরক্ষণ করার অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
র্যা বের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, ফ্লেভারসের কারখানায় খুবই অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদন হচ্ছিল। আর ফুলকলি তাদের খাবারে ক্ষতিকর রং ব্যবহার করছিল। বিভিন্ন অপরাধে এ দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৮ লাখ টাকা জরিমানা করে তাদের সতর্ক করা হয়েছে।

পুলিশে ফিরছেন না বাবুল আক্তার! কিন্তু কেন?


স্ত্রী মাহমুদা খানম (মিতু) হত্যা মামলায় ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের চাকরিতে ফেরা নিয়ে বড় সংশয় দেখা দিয়েছে। তিনি আর চাকরিতে ফিরছেন না বলে অসমর্থিত একটি সূত্র জানিয়েছে। সর্বত্র আলোচনা, বাবুল আক্তার কি পুলিশ বাহিনী থেকে চলে যাচ্ছেন? একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, কর্মকর্তাদের একটি অংশ চায় না, তিনি আর বাহিনীতে ফিরে আসুন। পুলিশ বাহিনীর ভেতরেও এ নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।
জানতে চাইলে পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
বাবুলের এক স্বজন বলেন, ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর থেকে কাজে ফেরা নিয়ে বাবুলের মধ্যেও সংশয় তৈরি হয়েছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এরপর ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। সেখানে যে পুলিশ পাহারা ছিল, গতকাল তা তুলে নেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, গত শুক্রবার রাতে বাবুলকে ডিবি কার্যালয়ে আনার পর এক উপকমিশনারের কক্ষে ডিআইজি পদমর্যাদার তিনজন কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই সময় তাঁকে দুটি শর্ত দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। বলা হয়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সব তথ্য-প্রমাণ তাঁদের হাতে রয়েছে। তাঁকে জেলে যেতে হবে অথবা বাহিনী থেকে সরে যেতে হবে। বাহিনী থেকে সরে যাওয়ার ব্যাপারে বাবুল সম্মতি দেন বলে জানা গেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে থাকা দুজন কর্মকর্তার কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তাঁরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। একজন কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ মহাপরিদর্শক ছাড়া এ ব্যাপারে কেউ কিছু বলতে পারবেন না।
এদিকে গত রোববার রাতে দুই আসামি আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। জবানবন্দিতে আসামি মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম বলেছেন, তিনি ফাঁকা গুলি ছুড়েছেন। তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র নিয়ে কামরুল সিকদার ওরফে মুছা গুলি করেন মাহমুদাকে। আরেক আসামি মো. আনোয়ার বলেছেন, মাহমুদাকে গুলি করেছে ওয়াসিম। তার গুলিতেই বাবুল আক্তারের স্ত্রী মারা যান।
মুছাকে আটক করা হয়েছে কি না, এ বিষয়ে গতকাল সোমবারও পুলিশ স্পষ্ট করে কিছু বলেনি। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, মাহমুদা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া সাত-আটজন আসামি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছেন। যেকোনো সময় পুলিশ তাঁদের আটক কিংবা গ্রেপ্তার দেখাতে পারে। ওয়াসিম ও আনোয়ারকে গত শনিবার গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও গতকাল মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, এ হত্যার সঙ্গে জড়িত আরও দু-একজন ধরা পড়বে বলে তিনি নিশ্চিত। মাহমুদা হত্যায় জড়িত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়েছে। বাবুল আক্তারকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্দেহভাজন আসামিদের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিতে তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছিল।
তবে এ মামলার যে দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, তাঁদের শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার সাংবাদিকদের জানান। ফলে বাবুলকে কোন আসামির মুখোমুখি করা হয়েছিল, তা জানা যায়নি।
এর আগে গত রোববার চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. ইকবাল বাহার সাংবাদিকদের বলেন, ওয়াসিমের গুলিতেই মাহমুদার মৃত্যু হয়েছে। গত রোববার বিকেল থেকে রাত ৯টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মোহাম্মদ হারুন অর রশিদের আদালতে পৃথকভাবে দেওয়া জবানবন্দিতে মাহমুদা হত্যার বিবরণ দেন দুই আসামি। আসামি ওয়াসিমের জবানবন্দি ১৪ পৃষ্ঠার এবং আনোয়ারের জবানবন্দি ১০ পৃষ্ঠার। দুই আসামি বর্তমানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।
দুই আসামির দেওয়া জবানবন্দির বিষয়ে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, মাহমুদা হত্যাকাণ্ডে সাতজন অংশ নেন। দুই আসামি জবানবন্দিতে অস্ত্রটি কার কাছ থেকে কিনেছেন, কে গুলি করেছেন তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তবে ওয়াসিম নিজে গুলি করার কথা স্বীকার না করে মুছার ওপর দোষ চাপিয়েছেন। ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা আনোয়ার স্বীকার করেন, ওয়াসিমই গুলি করেছেন মাহমুদাকে।
আদালত সূত্র জানায়, দুই আসামি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন হত্যাকাণ্ডে ওয়াসিম, আনোয়ার, মো. রাশেদ, আবদুল নবী, মো. শাহজাহান, কামরুল সিকদার ওরফে মুছা ও মো. কালু অংশ নেন। ওয়াসিম, মুছা ও আবদুল নবী মোটরসাইকেলে ছিলেন। বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করেন আবদুল নবী। অন্যরা ঘটনাস্থলের আশপাশে ছিলেন। ভোলা নামের এক ব্যক্তি অস্ত্র সরবরাহ করেন।
জবানবন্দিতে বলা হয়, বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে তাঁরা চিনতেন না। মুছার কথামতো ভাড়াটে হিসেবে তাঁরা খুনে অংশ নেন। মুছাকে পুলিশের ‘বড়’ সোর্স হিসেবে তাঁরা জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। জবানবন্দিতে কোনো পুলিশ কর্মকর্তার নাম তাঁরা বলেননি।
তদন্তের সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র জানায়, ওয়াসিম জবানবন্দিতে বলেছেন, বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে যখন ছুরিকাঘাত করা হয়, তখন তাঁর ছেলে ওয়াসিমের পা জড়িয়ে ধরে বলতে থাকে, ‘আমার আম্মুকে মেরো না। আমার আম্মুকে ছেড়ে দাও।’
৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামের জিইসি এলাকায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন বাবুলের স্ত্রী মাহমুদা খানম। ঘটনার পর পুলিশ জানায়, জঙ্গি দমনে বাবুল আক্তারের সাহসী ভূমিকা ছিল। এ কারণে জঙ্গিরা তাঁর স্ত্রীকে খুন করে থাকতে পারে। হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল আক্তার অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন। -প্রথম আলো।

সোমবার, ২৭ জুন, ২০১৬

চট্টগ্রামে গোয়েন্দা কর্মকর্তার স্ত্রীর লাশ উদ্ধার

প্রতিকী ছবি
চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানার লাভ লেইন এলাকার একটি বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম সাথী আক্তার (২৪)। স্বামী মোহাম্মদ আফতাব চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। পুলিশ বলেছে সাথী আত্মহত্যা করেছে।
পুলিশ  ২৬ জুন রোববার দুপুর ১টার দিকে সাথী আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক রাজু আহমেদ। তিনি সাংবাদিকদের জানান, সাথী আত্মহত্যা করেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।
স্থানীয়রা জানান, পুলিশ কর্মকর্তা আফতাবের স্ত্রী সাথী বাসার একটি কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে কি কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন জানাতে পারেনি পুলিশ।

শনিবার, ২৫ জুন, ২০১৬

মিতু হত্যাকাণ্ড; স্বামী বাবুল আক্তার ডিবি কার্যালয়ে

মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হঠাৎ করেই স্বামীক এসপি বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাসা থেকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
তবে বাবুলকে ডেকে না পাঠিয়ে গভীর রাতে সরাসরি ডিবির গাড়ি করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে কৌতুহল। কেনও বা তাকে অগ্রিম না জানিয়ে বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে?
শুক্রবার দিবাগত রাতে বাবুল আক্তারকে তার শ্বশুর বাড়ি খিলগাঁও মেরাদিয়া ১২০ নম্বর বাসা থেকে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের একটি বিশ্বস্তসূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বাবুল আক্তারের শ্বশুরও পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
খিলগাঁও থানার ডিউটি অফিসার আব্দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের কাছে তেমন কোন তথ্য নেই। আর ডিবি থেকে কখন কিভাবে অভিযান হয় সেটা আমারা জানতে পারি না’
এদিকে রামপুরা থানার ওসি (তদন্ত) সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কিছুক্ষন আগেই শুনেছি। আর কেন নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেটার বিষয়ে আমি নিশ্চত নয়। নিয়ে যাওয়া হয়েছে কিনা সেটাও আমি জানিনা।’
উল্লেখ্য, গত ৫ জুন নগরীর জিইসি’র মোড় এলাকায় ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত ও গুলিতে খুন হন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনার পরদিন পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তার বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মঙ্গলবার, ২১ জুন, ২০১৬

চট্টগ্রামে এক প্রেমিকার জন্য প্রাণ গেল দুই যুবকের

দুই প্রেমিক পক্ষের মারামারির সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এমন ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশে। নিহতরা হলেন- মিজানুর রহমান (২০) ও মো. ইয়াসিন (১৮)।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যার পর পাঁচলাইশ থানাধীন হামজারবাগ এলাকায় ওই সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে।
জানাযায়, এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জের ধরে হামজারবাগের শান্তিনগর এলাকায় করিম ও একই এলাকার থাই ফুড কারখানার কর্মচারী সজীবের পক্ষের লোকজনের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পাঁচলাইশ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আসিফ মহিউদ্দিন বলছেন, এক তরুণীর সঙ্গে করিমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের সম্পর্কে ভাঙন দেখা দেওয়ার পর ওই তরুণীর সঙ্গে সজীবের সম্পর্ক হয়। এই বিষয়টি নিয়ে আগে থেকে দুজনের মধ্যে শত্রুভাবাপন্ন সম্পর্ক ছিল। এর জের ধরে সোমবার সন্ধ্যার পর দুই পক্ষের লোকজন মারামারিতে লিপ্ত হয়।
এতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত মিজান ও ইয়াসিন কোন পক্ষের ছিলেন তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মিজানকে রাতে হামজারবাগের এম এ নাজিরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে মৃত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়।
আর ইয়াসিনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় কাছের বায়েজিদ থানার আমিন জুটমিল এলাকায়। হামজারবাগের সংঘর্ষে আহত হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পালানোর সময় ওই স্থানে তিনি মারা যেতে পারেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
 
সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ বাংলা তরঙ্গ ডিজাইন বাংলা তরঙ্গ