শিরোনাম
খেলার মাঠ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
খেলার মাঠ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ২২ জুন, ২০১৬

মেসির সোনালী দাড়ির রহস্য!

এবারের কোপা আমেরিকায় ভিন্ন এক লিওনেল মেসিকে দেখা যাচ্ছে। চেহারা ও নৈপুণ্য দু’টিতেই এসেছে ভিন্নতা। এক গাল লালচে দাড়ি নিয়ে খেলছেন তিনি। প্রথম দিকে মনে করা হচ্ছিল, কয়েকদিনের মধ্যে দাড়ি কেটে ফেলবেন। কিন্তু দিনে তার দাড়ি বেড়েই চলেছে, সঙ্গে নৈপুন্যও।-মানবজমিন।
আর্জেন্টিনার হয়ে এতদিন তার ছিল বহুত বদনাম। ক্লাবের হয়ে গোলের ফোয়ারা ছুটিয়ে দেশের হয়ে খেলতে গেলে হয়ে যেতেন মলিন। কিন্তু এবারের কোপা আমেরিকায় ভিন্ন ‘আর্জেন্টাইন’ মেসি। ইনজুরির কারণে গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচ খেলতে পারেননি।
কিন্তু নিজের প্রথম ম্যাচে নেমেই হ্যাটিট্রিক। চার ম্যাচ খেলে তিনটিতেই হয়েছেন সেরা খেলোয়াড়। ৫ গোলের পাশাপাশি চারটিতে করেছেন অ্যাসিস্ট। এতে গতবারের ফাইনালিস্ট আর্জেন্টিনাকে এবারও তুলেছেন ফাইনালে। অনেকে মনে করছেন, আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির এমন সাফল্যের রহস্য দাড়ি। এই সংস্কার মেনেই মেসি আর দাড়ি কাটছেন না। সমর্থকরাও মেসিকে এবার দাড়িহীন দেখতে চাইছে না।
তাদের শঙ্কা- দাড়ি কাটলেই মেসির ফর্ম পড়ে যাবে। শুধু সমর্থক-ই নয় মেসির জাতীয় দলের সতীর্থরাও তাকে দাড়ি কাটতে দিচ্ছেন না। বিষয়টি নিজেই জানালেন মেসি। দাড়ি কাটলে সতীর্থরা তাকে ‘খুন’ করার হুমকি দিয়েছেন বলে মজা করে ক’দিন আগে তিনি জানান। মেসিকে দেখে তার অনুসারীরাও এখন দাড়ি রাখতে শুরু করেছেন। আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে নকল দাড়ি লাগিয়ে আসতে দেখা গেছে অনেককে। এমন কি আর্জেন্টিনার সাংবাদিক ও ফুটবল ফেডারেশনের অনেককে মেসির মতো দাড়ি রাখতে শুরু করেছেন। আর্জেন্টিনার ফুটবল দলের অনেকেও দাড়ি রাখতে শুরু করেছেন।
সার্জিও আগুয়েরো নিজেই তো সেটা জানালেন, ‘লিওকে দেখে আমরা অনেকেই দাড়ি রাখতে শুরু করেছি। লিও একদিন বলল, দাড়ি রেখে দেখা যাক কী হয়। তার সঙ্গে দাড়ি রাখাটা আমরাও নিয়ম করে ফেলেছি।’ মেসির দাড়ি নিয়ে এত কাহিনী হলেও তার দাড়ি রাখার শুরুটা কীভাবে হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তবে মেসির ঘনিষ্ঠমহল সংবাদমাধ্যকে জানালো মেসির দাড়ি রাখার রহস্য। ১৪ এপ্রিল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে হেরে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ থেকে বিদায় নেয় মেসির বার্সেলোনা। কাতালানদের ওই বিপর্যয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন লিওলেন মেসি।
সেদিন মেসির নৈপুণ্য তেমন চোখে পড়ার মতো ছিল না। সে রাতে মেসি খুবই মন খারাপ করে ঘুমান। সকালে ঘুম থেকে জেগে দুঃখভারাক্রান্ত মনে আর দাড়ি কামাননি। পরের দিনও কামাননি।
তারপর মেসির কাছের কেউ নাকি তাকে বলেন যে, তাকে দেখতে সুন্দর লাগছে। সেই শুরু। মেসির ঘনিষ্ঠমহল তার দাড়ি রাখার পেছনে এই চমকপ্রদ গল্প শোনালো। তবে গল্পটা যা-ই হোক, দাড়িতে কোপা আমেরিকায় সাফল্য পাচ্ছেন মেসি। ভক্তরা চাচ্ছেন, এই দাড়ি রেখেই মেসি এবার কোপা আমেরিকা শেষ করুক। এই দাড়ি রেখে যদি এবার মেসি কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে নেন তাহলে কী হবে? ২০১৮ বিশ্বকাপেও কি তিনি দাড়ি রেখে খেলবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তরা তো ইতিমধ্যে সেই দাবি করে বসেছেন। তবে মেসিকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি হাসতে হাসতে বললেন, ‘এটা অনেকেই বলছে, রাশিয়াতেও নাকি আমার মুখে দাড়ি দেখা যাবে। না, তা থাকবে না।’

২০১৮-এর বিশ্বকাপে থাকছে না ব্রাজিল!

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে পিছিয়ে থাকা দল ব্রাজিলকে মনে হয় মূল পর্বে আর দেখা যাবে না! এমন আশংকার কথাই শোনালেন ব্রাজিলের নবনিযুক্ত কোচ তিতে।
ব্রাজিল দলের দায়িত্ব নেবার পর তিতে বলেন, 'আমাদের মনোযোগ বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে, আমরা নিরাপদ জায়গায় নেই। বাদ পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে ব্রাজিল।'
তিতের আশংকা সত্যি হলে সবগুলো বিশ্বকাপে খেলা ব্রাজিলকে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে আর দেখা যাবে না!

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা ৬ ম্যাচে দুই জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ছয় নম্বরে পড়ে আছে। বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পেতে চারের মধ্যে থাকতেই হবে ব্রাজিলকে। এছাড়া সম্প্রতি কোপা আমেরিকার গ্রুপ পর্বেই বাদ পড়ার লজ্জায় পড়েছে ব্রাজিল।

সব দেখেশুনে ব্রাজিলের ভবিষ্যত নিয়ে শংকাতেই পড়েছে সবাই।

অবস্থার ভয়াবহতা বোঝাতে তিতে বলেন, 'ব্রাজিলের খারাপ অবস্থার কথা যদি আপনি স্বীকার না করেন, তাহলে বাস্তবতার বিরুদ্ধে আপনি লড়াই করছেন।'

তবে তিতে যেহেতু দায়িত্ব নিয়েছেন, তাই শুধু হতাশার গল্প শুনিয়ে তো আর পার পাবেন না। তাই হতাশার গল্পের পাশাপাশি অধিনায়ক নেইমারের নেতৃত্বে দলকে একটি ভালো অবস্থানে নিয়ে আসার চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।

বললেন, 'বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব অনেক লম্বা একটা রেস। আরও ১২ ম্যাচ বাকি। আগের ম্যাচগুলোতে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ফল আসছিল না, এ জন্যই আমি দায়িত্বে এসেছি। দল হিসেবে বেড়ে ওঠা আর নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর সম্ভাবনা আমাদের আছে। আমি চাই ব্রাজিল জিতুক আর ভালো খেলুক।'

মেসি-জাদুতে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

টানা তিন বছর তিন নম্বর ফাইনালে উঠে গেল আর্জেন্টিনা। আজ কোপা আমেরিকার প্রথম সেমিফাইনালে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিল লিওনেল মেসির দল। মেসি নিজে এক গোল করে, দুটি করিয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন। এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও গড়েছেন মেসি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল। কিন্তু তাই বলে ম্যাচটা এমন একতরফা হবে! ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই মেসির আলতো বাতাসে ভাসানো বলে দারুণ হেড করে দলকে এগিয়ে দেন এজেকিয়েল লাভেজ্জি।
৩২ মিনিটে এল ইতিহাস গড়া সেই মুহূর্ত। বল নিয়ে ঝড়ের বেগে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণে ঢুকছিলেন মেসি। তাঁকে থামাতে বিকল্প পথ বেছে নিতেই হলো। ফাউল করেই মেসিকে থামাল যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণ। আগের দিনই জেরার্ডো মার্টিনো বলেছিলেন, মেসিকে থামাতে ন্যায়-অন্যায় বহু উপায় নেয় দলগুলো, কিন্তু থামাতে পারে কি? আজও পারল না শেষ পর্যন্ত।
নিজেই আদায় করে নেওয়া ফ্রি কিক থেকে মাঝারি দূরত্বের শটে ডান পোস্ট ঘেঁষে বল পাঠালেন জালে। আর এই গোল দিয়েই পেরিয়ে গেলেন গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতাকে। আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির গোল এখন ৫৫টি, বাতিগোলের ৫৪টি। আর কারও ৫০ গোলও নেই, এমনকি দ্য গ্রেট ডিয়েগো ম্যারাডোনারও। ম্যারাডোনার অবশ্য আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর কীর্তি আছে। মেসি সেখানে কিছুই জেতাতে পারেননি। পারবেন কি এবার?
আর্জেন্টিনা ট্রফি না জেতা পর্যন্ত দাঁড়ি কাটবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করা মেসিকে প্রতিটা পদক্ষেপেই মনে হচ্ছে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করা যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচে ফিরতে দ্রুতই এক গোল প্রয়োজন ছিল। কিন্তু উল্টো আর্জেন্টিনাই দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে গোল করে যুক্তরাষ্ট্রের অঘটনের শেষ সম্ভাবনাও শেষ করে দিল। নিখুঁত গোলশিকারির মতো বল জালে পাঠালেন হিগুয়েইন। ৮৬ মিনিটে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করলেন এই স্ট্রাইকার। এবারও গোল বানিয়ে দিয়েছেন মেসি।
ম্যাচের তখন আর কয়েক মিনিট বাকি। ৩-০ গোলে এগিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা নিশ্চিত জয় পেতে যাচ্ছে। গোলমুখ থেকে মেসি শটটা নিতেই পারতেন। গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ডিফেন্ডার অবশ্য সহজে গোলে শট নিতে দিত না। যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষকও এগিয়ে এসেছিল। কিন্তু মেসি একটা সুযোগ নিয়ে দেখলেও ক্ষতি ছিল না। গোলটা হয়ে গেলে আবারও টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনটা ফিরে পেতেন, গত ম্যাচেই চার গোল করে যেটি এখন চিলির এদুয়ার্দো ভারগাসের দখলে।
কিন্তু মেসি ঝুঁকি নেওয়ার বদলে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা হিগুয়েইনের দিকেই বল ঠেললেন। নিজে সর্বোচ্চ গোলাদাতা হওয়ার চেয়ে সতীর্থকে দিয়ে একটি গোল করানোতেই তাঁর বেশি আনন্দ! ৪-০!
এবারে আসরে এটি মেসির চতুর্থ অ্যাসিস্ট। পাঁচ গোল করে, চারটি করিয়ে মেসি এক্সপ্রেস ছুটছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে। আর তাতেই ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ, ২০১৫ সালের কোপা আমেরিকার পর এ বছরের বিশেষ কোপার ফাইনালেও উঠে গেলে আর্জেন্টিনা। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে চিলি নয়তো কলম্বিয়া। আগামীকাল দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ঠিক হবে সেটি।
তবে এবার যেভাবে ভারমুক্ত হয়ে খেলছেন মেসি, যেভাবে গোলের বন্যা ছুটিয়েছে আর্জেন্টিনা; ফাইনালের ট্রফিটাও কি ঠিক করে রাখাই আছে উঠবে কার হাতে?

মঙ্গলবার, ২১ জুন, ২০১৬

ফাইনালে ওঠার লড়াইটা সহজ হবে না: মেসি

কোপা আমেরিকার শত বছর পূর্তি উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে বসেছে জনপ্রিয় এই ফুটবল টুর্নামেন্টের শতবর্ষের আসর। ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে প্রথম সেমি-ফাইনালে বাধুবার মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র এবং গতবারের ফাইনালিস্ট আর্জেন্টিনা।
আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সকাল আটটা হিউস্টনে মুখোমুখি হবে দুই দল। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে এ লড়াই কঠিন হবে বলে মনে করছে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আত্মবিশ্বাসের কমতি না থাকলেও ফাইনালে ওঠার লড়াইটা সহজ হবে না বলে মনে করছেন তিনি।
মেসি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণের চেষ্টা করবে, তারা খুব কঠিন দল। এখন পর্যন্ত আমরা যা করে এসেছি আমাদের সেটাই করতে হবে। আমরা উন্নতি করছি এবং এভাবেই আমরা এগিয়ে যাব।’
এদিকে এ ম্যাচের আগে মেসি বা আর্জেন্টিনায় ভীত নয় যুক্তরাষ্ট্র, এমনটাই বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র কোচ ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান।
‌‌‌‘গতকাল অনুশীলন শুরুর আগে আমি ছেলেদের বলেছি-জীবনে এ সুযোগ একবারই আসে। তোমরা সেমি-ফাইনালে উঠে নিজেদের গর্বিত করেছো; কিন্তু এখন আরও বেশি কিছুর জন্য খেলো।’
আমরা কামড় বসাতে ও লড়তে প্রস্তুত; তাদের তাড়া করতে এবং ভালো করে সামলাতে প্রস্তুত। যদি আমরা এটা আবার করতে এবং তাতে বাড়তি কিছু যোগ করতে পারি, তাহলে এটা মজার (ম্যাচ) হতে যাচ্ছে। বলে জানান আয়োজক দেশটির কোচ।

রবিবার, ১৯ জুন, ২০১৬

কোপায় আর্জেন্টিনার গোলবন্যা

২, ৫, ৩, ৪...আর্জেন্টিনার গোলবন্যা চলছেই। এবার কোয়ার্টার ফাইনালেও এক হালি গোল পেয়েছে আর্জেন্টিনা। ভেনেজুয়েলাকে ৪-১ গোলে হারিয়ে চলে গেছে সেমিফাইনালে। কোপা আমেরিকার ইতিহাসে গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে বেশি ১০ গোল করা আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে করেছে ১৪ গোল!
প্রথম ম্যাচে চিলির বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়। এরপর পানামাকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বলিভিয়ার জালে মাত্র ৩২ মিনিটে ৩ গোলের পর জয়ের ব্যবধানটা ওই ৩-০–তেই রাখা। এরপর আজ চার গোল করল আর্জেন্টিনা। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলে আর্জেন্টিনাই বোধ হয় বিশ্বের সেই বিরল দলগুলোর একটি, ৩-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর প্রতিপক্ষের অর্ধে যারা ৯ খেলোয়াড় নিয়েও খেলার দুঃসাহস দেখায়। আজকের ম্যাচেও তা-ই হয়েছে। এমনকি ভেনেজুয়েলা একটা গোল শোধ করার পাল্টা প্রতিশোধ আর্জেন্টিনা আজ নিয়েছে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের ব্যবধানে।
গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার ১০ গোলের মাত্র একটি ছিল স্ট্রাইকারদের। সেটিও বদলি হিসেবে নামা সার্জিও আগুয়েরোর। আজ ম্যাচের শুরুতেই দুটি দারুণ গোল করে স্ট্রাইকারদের নিয়ে দুশ্চিন্তা কমিয়ে দিয়েছেন গঞ্জালো হিগুয়েইন। নক আউপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই ছন্দে ফিরলেন আর্জেন্টিনার মূল স্ট্রাইকার। এটাও সুখবর তো বটেই।
তার চেয়েও বড় সুখবর পুরো টুর্নামেন্টটা মেসির উপভোগের মন্ত্র হিসেবে নেওয়া। আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির ব্যর্থ হওয়ার মূল কারণ মানসিক চাপ নিয়ে নেওয়া। এবার যেন মেসি পণ করেছেন শিরোপার কথা মাথাতেই আনবেন না। নিজের মতো করে খেলে যাবেন। আজও ম্যাচে আলো ছড়ালেন। নিজে এক গোল করে আর্জেন্টিনার সর্বকালের গোলদাতার রেকর্ড ছুঁয়েছেন। দুটি গোলের উত্সও ছিলেন মেসি।
টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। তিনটি করে গোল করেছেন ফিলিপে কৌতিনহো ও ক্লিন্ট ডেম্পসি। এর মধ্যে কৌতিনহোর ব্রাজিল বিদায় নিয়েছে, ডেম্পসির যুক্তরাষ্ট্রই সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনার। ২২ জুনের সেই ম্যাচটি মেসি বনাম ডেম্পসির লড়াইও। ডেম্পসি যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মেসির সমান!
এবারের আসরে আর্জেন্টিনার নয়জন খেলোয়াড় গোল পেয়েছেন! এমনকি বদলি হিসেবে নেমেও দুই গোল করেছেন এরিক লামেলা। একটি করে গোল সার্জিও আগুয়েরো, এজেকিয়েল লাভেজ্জি, এভার বানেগা, অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া, নিকোলাস ওটামেন্ডি ও ভিক্টর কুয়েস্তার।
আর্জেন্টিনার যেখানে ১৪ গোল, টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাতটি করে গোল করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইকুয়েডর ও ব্রাজিল। কলম্বিয়া গোল ছয়টি। অবশ্য গ্রুপ পর্বে সাত গোল করা চিলি ও ছয় গোল করা মেক্সিকোর ম্যাচটি এখনো শেষ হয়নি।

মঙ্গলবার, ১৪ জুন, ২০১৬

হারের পর ম্যাচ নিয়ে যা বললেন দুঙ্গা

স্পোর্টস ডেস্ক: বিতর্কিত গোলে কোপা আমেরিকা থেকে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। খেলোয়াড়রা আবেদন করল, রেফারি কুনহা অন্য ম্যাচ অফিসিয়ালদের সঙ্গে কথা বললেন। কিন্তু হ্যান্ডবলের গোল ফিরিয়ে নিলেন না।
খেলার ৭৫ মিনিটে রাউল অ্যান্ডির ক্রস থেকে পাওয়া বল হাত দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন পেরুর খেলোয়াড় রুদিয়াজ। আর সেই গোলের সুবাদে জয় পেল পেরু। তাতে বিদায় নিতে হল ব্রাজিলকে।
তাই ম্যাচ শেষে ভাষা হারিয়ে ফেলা ব্রাজিলের কোচ দুঙ্গা বলেছেন, ‘এটা খুবই অদ্ভুত!’ তিনি আরো বলেন, ‘সবাই দেখলেন যে আজ কি ঘটল। কিছুই করার নাই। যদি কারো ব্যক্তিত্ব না থাকে, সে সবই করতে পারে। যা প্রত্যেকে দেখল তা আমরা পরিবর্তন করতে পারব না। আমাদের করার কিছুই নাই।’
ব্রাজিলের কোচ আরো বলেন, ‘এটা খুবই বিতর্কিত খেলা ছিল। আমরা প্রথমার্ধে প্রভাব বজায় রেখেছিলাম, দ্বিতীয়ার্ধের শেষ মুহূর্তে যা ঘটল তা খেলোয়াড় ও কোচের আওতার বাইরে।’
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো সব ধরনের প্রযুক্তির পরও কেন আমরা ভুল করি। রেফারিরা পরামর্শ করলেন। যখন তাদের একে অপরের সঙ্গে কথা বলা উচিত, তখন তারা অন্য কারো সাথে কথা বললেন। আমি বুঝি না, পরামর্শ করে যদি সিদ্ধান্তই না নিতে পারে, তাহলে তাদের হেডসেট দরকার কেন। খুবই অদ্ভুত!’

সোমবার, ১৩ জুন, ২০১৬

দাড়ি কাটলে মেসিকে মেরে ফেলা হবে!

স্পোর্টস ডেস্ক: বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবলার আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন জন্মগ্রহণ করেন তিনি। স্প্যানিশ লা-লিগার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার হয়ে খেলছেন তিনি।
মাত্র ২১ বছর বয়সে মেসি তার প্রথম ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জয়লাভ করেন। এখন পর্যন্ত পঞ্চমবারের মতো বর্ষসেরা ফুটবলারের খেতাব জিতেন বার্সেলোনার এই তারকা। এর আগে ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত টানা চারবার পুরস্কারটি জিতেছিলেন তিনি।
শতবর্ষী কোপা আমেরিকায় নিজের দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন রেকর্ডের বরপুত্র লিওনেল মেসি। প্রথম ম্যাচে না খেললেও দ্বিতীয় ম্যাচে নেমে ছিলেন ভিন্ন লুক নিয়ে। মুখভর্তি দাড়ি।
মুখভর্তি দাড়িতে খেলতে নেমে অসাধারণ পারফরম্যান্সে দেখিয়েছেন পাঁচবারের বর্ষসেরা এ ফুটবলার। পানামার বিপক্ষে খেলতে নেমে মাত্র ১৯ মিনিটেই হ্যাটট্রিক পূরণ করেন তিনি। এ যেন মুখভর্তি দাড়ি সঙ্গে শিরোপার জন্য ক্ষুধার্ত এক চেহারা।
মেসির দাড়ি রেখেই এমন অসাধারণ খুশি পারফরম্যান্সে দলের সতীর্থরাও। তাই দাড়ি না কাটার জন্য মেসিকে হুমকিও দিয়েছে তারা। ম্যাচ শেষে এমনটাই বললেন খোদ মেসি নিজেই।
মেসি জানান, ‘যদি আমি দাড়ি কাটি তাহলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’
 
সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ বাংলা তরঙ্গ ডিজাইন বাংলা তরঙ্গ